ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ বেনাপোলে এক বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী আটক বস্তিবাসীদের উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস তারেক রহমানের চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না চানখাঁরপুল মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অপেক্ষায় দেশ ইরানে হামলা নিয়ে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন মোদি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উদ্যাপন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৪০০ ঘর, শত শত পরিবার আশ্রয়হীন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত শার্শায় র‌্যাবের অভিযানে ২৯৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটা বাংলাদেশের আইনেই রয়েছে: রাশিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে, তা দেশটির আইনেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রাজনীতিবিদদের তৎপরতাকে নব্য উপনিবেশবাদ ছাড়া কী বলা যেতে পারে!

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মস্কোতে নিয়মিত ব্রিফিংকালে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন। এ দিনই রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইটে মুখপাত্রের বক্তব্য সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করে। শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে মুখপাত্রের পুরো বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এমন একটা সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাঁর দেশের অবস্থান তুলে ধরলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্তত দুটি প্রতিনিধিদল এ মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে। ১১ জুলাই চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, উজরা জেয়ার সফরে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এ দিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি তথ্যানুসন্ধান দল ঢাকায় আসছে।

বৃহস্পতিবার মস্কোতে মারিয়া জাখারোভা বলেন, জুনের মাঝামাঝি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেলকে এবং একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে পাঠানো ডেমোক্রেটিক পার্টির মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের পাঠানো যে চিঠিগুলো প্রকাশিত হয়েছে, তা লক্ষ করেছেন। চিঠিগুলোতে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের চিঠির সমালোচনা করে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমি আগে কখনো শুনিনি যে বাংলাদেশ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য। এটা শুনিনি কারণ বাংলাদেশ এর সদস্য নয়। আমি জানতাম না যে বাংলাদেশের নির্বাচন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত।

পশ্চিমাদের যুক্তিটা এমন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে প্রাক্-নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সেখানে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে কিছু সুপারিশ তুলে ধরবেন। এটা নব্য উপনিবেশবাদ ছাড়া আর কী? এটা নগর এবং পাড়া-মহল্লার প্রতি তাদের আচরণের প্রদর্শন ছাড়া আর কী?’

এগুলো একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন মারিয়া জাখারোভা। তিনি বলেন, ‘আমরা এটিও বুঝতে পারছি নির্বাচন কীভাবে পরিচালনা করতে হবে তা নিয়ে সেখানকার কর্তৃপক্ষ (বাংলাদেশ) তাদের (ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের) পরামর্শ চায়নি।’

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন যাদের সমালোচনা করে, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠরাই তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ) কাছে যায় না। তারা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য এবং নিজেরাই নিজেদের সমস্যা মোকাবিলার কথা বলে। বাংলাদেশে কীভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে, তা খুব স্পষ্টভাবেই দেশটির আইনে উল্লেখ করা আছে।

বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি অনুসরণের যে আকাঙ্ক্ষা ঢাকার রয়েছে, তাতে রাশিয়ার সমর্থন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মারিয়া জাখারোভা।

প্রসঙ্গত, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের টুইটের আগে একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভান স্টিফেনেককে একটি চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে অর্থবহ সংলাপের তাগিদ দেন।

গত মে মাসে বাংলাদেশ সরকারের ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বন্ধ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে জরুরি পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি লেখেন মার্কিন কংগ্রেসের ছয় সদস্য। আর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভূমিকা রাখতে ইভান স্টিফেনেকসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য গত জুনে জোসেপ বোরেলকে চিঠি লেখেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবীর মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এবং নির্বাচনকে ঘিরে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অমূলক এবং এর কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে পরিস্থিতি, তার শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত।

কাজেই বৃহৎ শক্তিগুলো এই পরিস্থিতিকে তাদের নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপট থেকে না দেখে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট থেকে দেখাই ভালো। বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো বাস্তবতা বুঝে ইতিবাচকভাবে সহায়তা করবে, নিজেদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাবে না—এটাই প্রত্যাশিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটা বাংলাদেশের আইনেই রয়েছে: রাশিয়া

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে, তা দেশটির আইনেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রাজনীতিবিদদের তৎপরতাকে নব্য উপনিবেশবাদ ছাড়া কী বলা যেতে পারে!

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মস্কোতে নিয়মিত ব্রিফিংকালে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন। এ দিনই রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইটে মুখপাত্রের বক্তব্য সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করে। শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে মুখপাত্রের পুরো বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এমন একটা সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাঁর দেশের অবস্থান তুলে ধরলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্তত দুটি প্রতিনিধিদল এ মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে। ১১ জুলাই চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, উজরা জেয়ার সফরে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এ দিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি তথ্যানুসন্ধান দল ঢাকায় আসছে।

বৃহস্পতিবার মস্কোতে মারিয়া জাখারোভা বলেন, জুনের মাঝামাঝি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেলকে এবং একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে পাঠানো ডেমোক্রেটিক পার্টির মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের পাঠানো যে চিঠিগুলো প্রকাশিত হয়েছে, তা লক্ষ করেছেন। চিঠিগুলোতে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের চিঠির সমালোচনা করে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমি আগে কখনো শুনিনি যে বাংলাদেশ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য। এটা শুনিনি কারণ বাংলাদেশ এর সদস্য নয়। আমি জানতাম না যে বাংলাদেশের নির্বাচন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত।

পশ্চিমাদের যুক্তিটা এমন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে প্রাক্-নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সেখানে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে কিছু সুপারিশ তুলে ধরবেন। এটা নব্য উপনিবেশবাদ ছাড়া আর কী? এটা নগর এবং পাড়া-মহল্লার প্রতি তাদের আচরণের প্রদর্শন ছাড়া আর কী?’

এগুলো একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন মারিয়া জাখারোভা। তিনি বলেন, ‘আমরা এটিও বুঝতে পারছি নির্বাচন কীভাবে পরিচালনা করতে হবে তা নিয়ে সেখানকার কর্তৃপক্ষ (বাংলাদেশ) তাদের (ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের) পরামর্শ চায়নি।’

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন যাদের সমালোচনা করে, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠরাই তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ) কাছে যায় না। তারা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য এবং নিজেরাই নিজেদের সমস্যা মোকাবিলার কথা বলে। বাংলাদেশে কীভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে, তা খুব স্পষ্টভাবেই দেশটির আইনে উল্লেখ করা আছে।

বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি অনুসরণের যে আকাঙ্ক্ষা ঢাকার রয়েছে, তাতে রাশিয়ার সমর্থন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মারিয়া জাখারোভা।

প্রসঙ্গত, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের টুইটের আগে একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভান স্টিফেনেককে একটি চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে অর্থবহ সংলাপের তাগিদ দেন।

গত মে মাসে বাংলাদেশ সরকারের ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বন্ধ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে জরুরি পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি লেখেন মার্কিন কংগ্রেসের ছয় সদস্য। আর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভূমিকা রাখতে ইভান স্টিফেনেকসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য গত জুনে জোসেপ বোরেলকে চিঠি লেখেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবীর মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এবং নির্বাচনকে ঘিরে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অমূলক এবং এর কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে পরিস্থিতি, তার শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত।

কাজেই বৃহৎ শক্তিগুলো এই পরিস্থিতিকে তাদের নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপট থেকে না দেখে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট থেকে দেখাই ভালো। বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো বাস্তবতা বুঝে ইতিবাচকভাবে সহায়তা করবে, নিজেদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাবে না—এটাই প্রত্যাশিত।