নির্বাচন কমিশনকে জামায়াতের ১৮ দফা সুপারিশ নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগে জোর
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৪১ বার পড়া হয়েছে
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি
২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তরফে ১৮ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে। মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, আমাদের ১৮ দফা সুপারিশের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক সমতা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে ইসি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে।
জামায়াতের প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়োগে প্রশাসনের পাশাপাশি ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা। দলটির দাবি, সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়ায় আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এছাড়া জামায়াতের সুপারিশে বলা হয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করে নভেম্বরে গণভোট আয়োজন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে শতভাগ নিরপেক্ষতা রক্ষা এবং পোলিং, প্রিজাইডিং অফিসার, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়।
জামায়াত আরও প্রস্তাব করেছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সেনা মোতায়েন, বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বিগত বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক নিয়োগ শতভাগ লটারির ভিত্তিতে সম্পন্ন করা উচিত। দলটি আরও দাবি করেছে, ভোটার তালিকায় স্পষ্ট ছবি নিশ্চিত করে তা পোলিং এজেন্টদের সরবরাহ করতে হবে, প্রবাসী ভোটারদের জন্য আইডি কার্ড বা পাসপোর্টের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে এবং নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতদের পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা দিতে হবে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে জামায়াত চায় তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করা হোক। এছাড়া অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, আমরা এই প্রস্তাবগুলো নির্বাচন কমিশনের তাৎক্ষণিক বিবেচনার জন্য দিয়েছি। আশা করি, ইসি এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে এবং একটি সত্যিকারের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে। জামায়াতের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ হবে।




















