ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধর্মপাশায় বৃষ্টিতে স্বস্তি, প্রাণ ফিরে পেল বোরো আবাদ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ বিষয়ে বৈঠক সংস্কার পরিষদের সাংবিধানিক অস্তিত্ব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের প্রতিবেশীদের উসকে দিতে ‘ভুয়া ড্রোন’ কৌশল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কয়েকটি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা জানিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন মার্কিন হামলার পরও খারগ দ্বীপ থেকে তেল রপ্তানি অব্যাহত: ইরান ডলার নয়, ইউয়ানে লেনদেন হলে খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা

ধর্মপাশায় বৃষ্টিতে স্বস্তি, প্রাণ ফিরে পেল বোরো আবাদ

জাকিয়া সুলতানা ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ধর্মপাশায় বৃষ্টিতে স্বস্তি, প্রাণ ফিরে পেল বোরো আবাদ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এক পশলা বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার কৃষকদের মুখে। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের জমিতে পানির তীব্র সংকট অনেকটাই কমে গেছে। যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে চলতি মৌসুমের বোরো আবাদ।

প্রায় আট থেকে নয় মাস ধরে এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছিল। জমিতে পানির অভাবে ধানের চারা অনেক জায়গায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বাধ্য হয়ে কৃষকদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিতে হচ্ছিল। কিন্তু বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে সেচ ব্যয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এতে অনেক কৃষক আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধ্যার বৃষ্টি যেন কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। বৃষ্টির পানিতে জমির মাটি নরম হয়েছে, বেড়েছে আর্দ্রতা। ধানের গাছগুলো আবারও সতেজ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ধুলাবালিতে ঢেকে থাকা পরিবেশও অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফলে প্রকৃতিতে ফিরে এসেছে স্বস্তির পরশ।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এই বৃষ্টির কারণে আপাতত সেচের চাপ কিছুটা কমবে। ধানের গাছগুলো নতুন করে শক্তি পাবে এবং ফলনের সম্ভাবনাও বাড়বে। অনেক কৃষকই বলছেন, “এই বৃষ্টি যেন আল্লাহর রহমত। এতে আমাদের বোরো ধান আবার বাঁচার আশা পেল।”

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ সময়ের বৃষ্টি বোরো ধানের জন্য বেশ উপকারী। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম হয় এবং জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও কম লাগে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং ভালো ফলনের সম্ভাবনাও বাড়ে।

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে গভীর নলকূপের ব্যবহার কমবে। এতে বিদ্যুৎ ও ডিজেল—দুই ধরনের জ্বালানিই কিছুটা সাশ্রয় হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলন হবে।

হঠাৎ পাওয়া এই বৃষ্টিতে তাই এখন ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের কৃষকদের চোখেমুখে স্বস্তির হাসি—প্রকৃতির এই সামান্য দানই তাদের মনে জাগিয়ে তুলেছে নতুন আশার আলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ধর্মপাশায় বৃষ্টিতে স্বস্তি, প্রাণ ফিরে পেল বোরো আবাদ

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এক পশলা বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার কৃষকদের মুখে। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের জমিতে পানির তীব্র সংকট অনেকটাই কমে গেছে। যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে চলতি মৌসুমের বোরো আবাদ।

প্রায় আট থেকে নয় মাস ধরে এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছিল। জমিতে পানির অভাবে ধানের চারা অনেক জায়গায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বাধ্য হয়ে কৃষকদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিতে হচ্ছিল। কিন্তু বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে সেচ ব্যয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এতে অনেক কৃষক আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধ্যার বৃষ্টি যেন কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। বৃষ্টির পানিতে জমির মাটি নরম হয়েছে, বেড়েছে আর্দ্রতা। ধানের গাছগুলো আবারও সতেজ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ধুলাবালিতে ঢেকে থাকা পরিবেশও অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফলে প্রকৃতিতে ফিরে এসেছে স্বস্তির পরশ।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এই বৃষ্টির কারণে আপাতত সেচের চাপ কিছুটা কমবে। ধানের গাছগুলো নতুন করে শক্তি পাবে এবং ফলনের সম্ভাবনাও বাড়বে। অনেক কৃষকই বলছেন, “এই বৃষ্টি যেন আল্লাহর রহমত। এতে আমাদের বোরো ধান আবার বাঁচার আশা পেল।”

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ সময়ের বৃষ্টি বোরো ধানের জন্য বেশ উপকারী। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম হয় এবং জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও কম লাগে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং ভালো ফলনের সম্ভাবনাও বাড়ে।

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে গভীর নলকূপের ব্যবহার কমবে। এতে বিদ্যুৎ ও ডিজেল—দুই ধরনের জ্বালানিই কিছুটা সাশ্রয় হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলন হবে।

হঠাৎ পাওয়া এই বৃষ্টিতে তাই এখন ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের কৃষকদের চোখেমুখে স্বস্তির হাসি—প্রকৃতির এই সামান্য দানই তাদের মনে জাগিয়ে তুলেছে নতুন আশার আলো।