ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচন সামনে রেখে লুটের অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে  শঙ্কা, নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ গোপালগঞ্জের শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা: এক দশক পর পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ পাঁচজন নিহত ইরানের দিকে আরও মার্কিন সামরিক বহর: চাপ ও সমঝোতার বার্তায় বাড়ছে উত্তেজনা সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে নবনির্মিত দুটি বিওপি উদ্বোধন করলেন বিজিবি মহাপরিচালক জাতীয় স্বার্থে বৈদেশিক নীতিতে ন্যূনতম রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা চট্টগ্রামের বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্রে মানবতার স্মরণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের শ্রদ্ধা বেতন বাড়ানোর ক্ষমতা নেই অন্তর্বর্তী সরকারের, সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার নির্বাচনে জনগণের আস্থা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ ড. ইউনূসের

ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার মামলা: জনসন অ্যান্ড জনসনকে ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬৩ বার পড়া হয়েছে

ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার মামলা: জনসন অ্যান্ড জনসনকে ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসনকে মোট ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি। লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে ঘোষিত এই রায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে চলমান হাজারো মামলার ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রায়ে জুরি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা মনিকা কেন্টকে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং ডেবোরা শুল্টজ ও তাঁর স্বামীকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেন। জুরির মতে, জনসন অ্যান্ড জনসন দীর্ঘদিন ধরেই জানত যে তাদের ট্যালকভিত্তিক পণ্যগুলো সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, কিন্তু সে বিষয়ে ভোক্তাদের যথাযথ সতর্ক করেনি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মনিকা কেন্টের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত হয় ২০১৪ সালে এবং ডেবোরা শুল্টজের ক্যানসার ধরা পড়ে ২০১৮ সালে। দুজনই প্রায় চার দশক ধরে গোসলের পর নিয়মিত জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহার করতেন। ক্যানসারের চিকিৎসায় তাঁদের একাধিক বড় অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

বিচার চলাকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ডি বার্চফিল্ড বলেন, ১৯৬০-এর দশক থেকেই জনসন অ্যান্ড জনসন জানত যে ট্যালকভিত্তিক পণ্য ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য গোপন রেখেছে। বিপরীতে কোম্পানির আইনজীবী অ্যালিসন ব্রাউন দাবি করেন, ট্যালক ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের যোগসূত্রের পক্ষে কোনো বড় মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থা বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুস্পষ্ট সমর্থন নেই।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জনসন অ্যান্ড জনসনের বৈশ্বিক লিটিগেশনবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস বলেন, কোম্পানি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং আগের মতোই আপিল আদালতে জয়ী হওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬৭ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বেবি পাউডার ও অন্যান্য ট্যালকভিত্তিক পণ্য ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও মেসোথেলিওমার মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বাদীরা।

বিতর্কের মুখে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে কর্নস্টার্চভিত্তিক পণ্য বাজারজাত শুরু করে জনসন অ্যান্ড জনসন। মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য দেউলিয়া আইনের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও ফেডারেল আদালত তিনবার সেই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার মামলা: জনসন অ্যান্ড জনসনকে ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ

আপডেট সময় : ০৬:০৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসনকে মোট ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি। লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে ঘোষিত এই রায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে চলমান হাজারো মামলার ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রায়ে জুরি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা মনিকা কেন্টকে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং ডেবোরা শুল্টজ ও তাঁর স্বামীকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেন। জুরির মতে, জনসন অ্যান্ড জনসন দীর্ঘদিন ধরেই জানত যে তাদের ট্যালকভিত্তিক পণ্যগুলো সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, কিন্তু সে বিষয়ে ভোক্তাদের যথাযথ সতর্ক করেনি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মনিকা কেন্টের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত হয় ২০১৪ সালে এবং ডেবোরা শুল্টজের ক্যানসার ধরা পড়ে ২০১৮ সালে। দুজনই প্রায় চার দশক ধরে গোসলের পর নিয়মিত জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহার করতেন। ক্যানসারের চিকিৎসায় তাঁদের একাধিক বড় অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

বিচার চলাকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ডি বার্চফিল্ড বলেন, ১৯৬০-এর দশক থেকেই জনসন অ্যান্ড জনসন জানত যে ট্যালকভিত্তিক পণ্য ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য গোপন রেখেছে। বিপরীতে কোম্পানির আইনজীবী অ্যালিসন ব্রাউন দাবি করেন, ট্যালক ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের যোগসূত্রের পক্ষে কোনো বড় মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থা বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুস্পষ্ট সমর্থন নেই।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জনসন অ্যান্ড জনসনের বৈশ্বিক লিটিগেশনবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস বলেন, কোম্পানি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং আগের মতোই আপিল আদালতে জয়ী হওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬৭ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বেবি পাউডার ও অন্যান্য ট্যালকভিত্তিক পণ্য ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও মেসোথেলিওমার মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বাদীরা।

বিতর্কের মুখে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে কর্নস্টার্চভিত্তিক পণ্য বাজারজাত শুরু করে জনসন অ্যান্ড জনসন। মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য দেউলিয়া আইনের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও ফেডারেল আদালত তিনবার সেই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান