জিয়ার ঐতিহাসিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আবারও খাল খনন শুরু করলেন তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১২:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে জলব্যবস্থাপনার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে একসময় খাল খননের মতো যুগান্তকারী কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তিনি নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে খাল কাটার কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। একজন রাষ্ট্রপতির এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সেসময় বাংলার কৃষকদের মনে নতুন সাহস ও আশার সঞ্চার করেছিল।
জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।
এই কর্মসূচিটি মূলত ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হতো, যার লক্ষ্য ছিল সেচব্যবস্থার উন্নতি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।
দীর্ঘদিন পর আবারও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় খাল খনন কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে তিনি সেখানে অবতরণ করলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি সৈয়দপুর শহর অতিক্রম করে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলা-এর বলরামপুর এলাকায় ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে “খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬” এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
সরকারি সূত্র জানায়, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সেচব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে এই খাল খনন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বহু এলাকায় প্রাকৃতিক খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচ সংকটে পড়ছেন।
নতুন করে খাল খনন এবং পুরোনো খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিজমিতে সহজে পানি পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং কৃষি ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে খাল, নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও সহায়ক হবে।
সরকারের আশা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক কর্মসূচির নবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাত নতুন গতি পাবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।



















