ছাব্বিশের ভোট দেখতে হলে আগে স্বীকৃতি দিতে হবে জুলাই বিপ্লবকে : জামায়াত আমির
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১৪৯ বার পড়া হয়েছে
গণভোটের দাবি পুনর্ব্যক্ত, আট দলের নতুন কর্মসূচি শিগগির
জামায়াত ও সহযোগী দলগুলো ঘোষণা দিয়েছে, জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া দেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা ফেব্রুয়ারির মধ্যে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং নতুন আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছে।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আগে জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি ও জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ড. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর পল্টন মোড়ে জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত আট দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি বড় কিছু নয়, তবে খুব স্পষ্ট। জুলাই বিপ্লবকে স্বীকৃতি দিতে হবে, আর এই স্বীকৃতির আইনি ভিত্তি হলো জুলাই সনদ। এই ভিত্তি ছাড়া ২৬ সালের কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়। যারা জুলাই বিপ্লব মানবে না, তারা নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ নির্বাচনের আগে গণভোট চায়। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়েই জুলাই সনদ আইনি স্বীকৃতি পাবে। সব দল যখন সনদে স্বাক্ষর করেছে, তখন আগে গণভোট হওয়াই যুক্তিযুক্ত।
জামায়াতের আমির বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী আট দল আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন চায়। এ নিয়ে কেউ যেন ধোঁয়াশা বা ধূম্রজাল সৃষ্টি না করে।
তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতের ভিত্তিতেই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে। গণতন্ত্রের অর্থ হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া। যারা সেটি মানতে চায় না, তারা গণতন্ত্রকেই অসম্মান করছে।

কোনো দলের নাম না নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত মানুষদের ভাষা বুঝতে হবে। আগামী নির্বাচনে কোনো দলের নয়, জনতার বিজয় হবে। যারা জনগণের ইচ্ছা বুঝতে ব্যর্থ হবে, তাদের নিজেদের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দলগুলো ভদ্র ভাষায় কথা বলছে, বলবে। তবে দাবির ব্যাপারে আমরা হিমালয়ের মতো অনড়। কারণ, এই দাবি জনগণের-কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির নয়। তাই ফ্যাসিবাদের দাবির কাছে জনগণ কখনো মাথা নত করবে না।
সমাবেশে আট দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, তৈরি হোন। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন দুর্বার গতিতে চলবে, ইনশা আল্লাহ। তিনি জানান, সমাবেশ শেষে আট দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে মিলিত হবেন এবং খুব শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, রফিকুল ইসলাম খান, ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ, খেলাফত মজলিসের আমির আব্দুল বাসিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ অন্যান্য নেতারা।




















