ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখো মানবঢল, মঙ্গলবার খুলছে অফিস-আদালত
- আপডেট সময় : ০৬:৫০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
ঈদের আমেজ ফুরোতেই আবার ব্যস্ত নগরজীবনে ফেরা, এমন এক বাস্তবতায় রাজধানী ঢাকায় ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে কর্মচাঞ্চল্যের প্রত্যাবর্তন
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা এক সপ্তাহের ছুটি শেষে আবারও স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরছে রাজধানী ঢাকা। মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংকসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান তাদের আগের সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করবে।
ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার পর এখন ঢাকায় ফেরার পালা। সোমবার রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে ঢাকামুখী মানুষের ঢল।

তবে এই ভিড়ের মধ্যেও কোথাও কোথাও ছিল ভিন্ন চিত্র, যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় কিছু বাস যাত্রা বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে।
ছুটির শেষ দিনে ট্রেন, লঞ্চ ও দূরপাল্লার বাসে করে রাজধানীতে ফিরেছেন হাজারো মানুষ। অনেকেই মঙ্গলবার প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে আগেভাগেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। তবে এবার তুলনামূলকভাবে চাপ কিছুটা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়সূচিতে ফিরছে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যাংকগুলোতে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত, আর দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
একইভাবে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত, আর অফিস কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

তবে ছুটির দীর্ঘতার কারণে এখনো রাজধানীর সড়কগুলো পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে ওঠেনি। সোমবার মিরপুর-ফার্মগেট, উত্তরা-মহাখালী এবং গুলশান-বনানী সড়ক ঘুরে দেখা গেছে তুলনামূলক ফাঁকা পরিবেশ। গণপরিবহনগুলোতেও যাত্রী সংকট চোখে পড়েছে।
যাত্রী কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকেই। বরিশালের গৌরনদী থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান অনেকেই।
জানা গেছে, যাত্রী না থাকায় নির্ধারিত বাস যাত্রা বাতিল করা হয়, পরে অন্য বাসে এলেও পাশের সিট ফাঁকাই ছিল। ঈদের মতো ব্যস্ত সময়ে এমন দৃশ্য তার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

এদিকে অনেকেই ঈদের ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত দু-একদিন ছুটি যোগ করেছেন। ফলে তারা সরাসরি ২৬ মার্চের ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে আরও দীর্ঘ অবকাশ কাটিয়ে পরে কর্মস্থলে ফিরবেন। এ কারণেও রাজধানীতে এখনো পুরোপুরি কর্মব্যস্ততা ফিরে আসেনি।
অন্যদিকে, যারা ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করেছেন, তারা ইতোমধ্যে কর্মদিবসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আয়শা আক্তার বলেন, চোখের পলকে ঈদ শেষ হয়ে গেল।
অসুস্থতার কারণে ঠিকভাবে ছুটিটা উপভোগ করতে পারিনি। তবুও কাজ তো করতেই হবে, কাল থেকেই আবার পুরনো রুটিনে ফিরতে হবে।

উল্লেখ্য, ঈদের আগে ১৬ মার্চ ছিল শেষ কর্মদিবস। এবার সরকার ঈদের ছুটি একদিন বাড়িয়ে মোট সাতদিন করেছে।
শবে কদর ও ঈদের ছুটির মাঝখানে থাকা একদিন কর্মদিবসও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়, ফলে দীর্ঘ এই ছুটির সুযোগ পেয়েছেন কর্মজীবী মানুষ।
সব মিলিয়ে, উৎসবের রেশ কাটিয়ে আবারও ছন্দে ফিরছে রাজধানী, তবে পুরো গতি ফিরে পেতে হয়তো লাগবে আরও কয়েকটি দিন।



















