আমদানি বৃদ্ধি ও পণ্য রপ্তানি বাণিজ্যঘাটতি বেড়ে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্যঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৬৯১ কোটি মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ ঘাটতি ৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে পণ্য আমদানি বেড়েছে, কিন্তু রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে বাণিজ্যঘাটতি আরও বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৩০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। মূলত আগস্ট মাস থেকে রপ্তানিতে নিম্নগতি শুরু হয়। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াই এ পতনের অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, পণ্য আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রায় ২১ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে ব্যালান্স অব পেমেন্টের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে। রেমিট্যান্স না বাড়লে সামগ্রিক ঘাটতি আরও বেশি হতে পারত।
চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে এ ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণভাবে, চলতি হিসাব একটি দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেনের চিত্র তুলে ধরে। এতে ঘাটতি থাকলে তা পূরণে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়।
এদিকে আর্থিক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এ হিসাবে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪০৮ কোটি ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৪৩ কোটি ডলার। মূলত ট্রেড ক্রেডিট বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উন্নতি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ট্রেড ক্রেডিট দাঁড়িয়েছে ২৫৬ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রেড ক্রেডিট ইতিবাচক হওয়া মানে আগের রপ্তানির বকেয়া অর্থ দেশে আসছে। বিপরীতে এটি ঋণাত্মক হলে রপ্তানি আয়ের অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
সার্বিকভাবে, আমদানি বৃদ্ধির সঙ্গে রপ্তানি হ্রাসের ফলে বাণিজ্যঘাটতি বাড়লেও রেমিট্যান্স ও আর্থিক হিসাবে উন্নতি দেশের বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

















