আটলান্টিকের হারিয়ে যাওয়া সাবমেরিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অক্সিজেন
- আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩ ১৮১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
আটলান্টিকের তলদেশে হারানো সাবমেরিনটিতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অক্সিজেন মজুত রয়েছে। বৃহস্পতিবারও সাবমেরিনটি উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল। সাবমেরিনটি নিখোঁজ হওয়া অঞ্চলে সমুদ্রের তলদেশ থেকে বেশ কয়েকবার শব্দ পাওয়া গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শব্দ সাবমেরিনটি থেকে এসেছে, এমনটা না-ও হতে পারে।
টাইটান নামের সাবমেরিনের মালিক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ওশানগেট। আটলান্টিকের তলদেশে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখার জন্য এক চালকসহ পাঁচ আরোহীকে বহন করছিল সাবমেরিনটি। স্থানীয় সময় গত রবিবার কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জন উপকূল থেকে একটি জাহাজে করে সেটিকে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের স্থলে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের মাথায় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সেটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ওশানগেটের দেওয়া তথ্য বলছে, সাবমেরিনটিতে মোট ৯৬ ঘণ্টা বা ৪ দিনের অক্সিজেনের মজুত ছিল। সে হিসাবে স্থানীয় সময় সকাল নাগাদ অক্সিজেন শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন সাবমেরিনটিতে এখনো বিদ্যুৎ-সংযোগ আছে কি না এবং সেটির আরোহীরা গত কয়েক দিনে কী পরিমাণ অক্সিজেন খরচ করেছেন সেসব বিষয়। ওশানগেট আশা করছে, সাবমেরিনটি অক্ষত আছে।
সাবমেরিনটিতে আরোহীরা বেঁচে আছেন বলে আশা করছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও উদ্ধারকারীরাও। গত মঙ্গল ও বুধবার কানাডার উদ্ধারকারী দল আটলান্টিকের তলদেশ থেকে কিছু শব্দ শনাক্তের পর আশা আরও জোরদার হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড বলছে, ওই শব্দের কোনো উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এগুলো টাইটান থেকে আসছে, এমন না-ও হতে পারে।
১৯১২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল টাইটানিক। সে সময়ের সবচেয়ে বড় এ জাহাজের প্রথম যাত্রা ছিল সেটি। সে যাত্রায়ই এক হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় টাইটানিক। মৃত্যু হয় এক হাজার পাঁচ শতাধিক যাত্রীর। পরে ১৯৮৫ সালে উত্তর আটলান্টিকের তলদেশে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ ফুট গভীরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
উত্তর আটলান্টিকে যে অঞ্চলজুড়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে, তার আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের দ্বিগুণ। শেষ মুহূর্তে এসে উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করতে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছে ফ্রান্সের গবেষণা জাহাজ ‘আটলান্টা’। জাহাজটিতে ‘ভিক্টর-৬০০০’ নামের একটি রোবট রয়েছে।
টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের চেয়ে বেশি গভীরতায় পৌঁছাতে পারে সেটি। আর রোবটটি পানির তলদেশে আটকে পড়া কোনো যান উদ্ধার করে ওপরে তুলে আনতে পারে। এ ছাড়া জলের নিচ থেকে টেনে তুলতে পারে এমন বিশেষ ব্যবস্থাসম্পন্ন জাহাজ পাঠাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী।




















