ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ বেনাপোলে এক বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী আটক বস্তিবাসীদের উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস তারেক রহমানের চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না চানখাঁরপুল মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অপেক্ষায় দেশ ইরানে হামলা নিয়ে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছায় স্বাগত জানালেন মোদি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উদ্যাপন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৪০০ ঘর, শত শত পরিবার আশ্রয়হীন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত শার্শায় র‌্যাবের অভিযানে ২৯৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

Uzra Jeya visited the Rohingya camp : উজরা জেয়া শোনলেন নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির কথা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩ ২৭১ বার পড়া হয়েছে

রোহিঙ্গা পরিদর্শ করেন উজরা জেয়া : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বর্বর নির্যাতন, অত্যাচার, গণহত্যা ও নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন’

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কথা শুনলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন উজরা জেয়া। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি। বালুখালী ও আশপাশের তিনটি আশ্রয়শিবির এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শরণার্থী সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উজরা জেয়া। এর আগে বাংলাদেশে আসেন গত মঙ্গলবার।

আশ্রয়শিবির পরিদর্শনকালে অন্তত ২৫ জন রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন উজরা। বৈঠকে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের ওপর চালানো গণহত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের বর্ণনা দেন। পাশাপাশি নিরাপদ, টেকসই ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা

সকাল ৯টার দিকে উজরা জেয়ার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধিদল ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সড়কপথে সরাসরি উখিয়ার বালুখালী (ক্যাম্প-৯) আশ্রয়শিবিরে যান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনান্ড লু এবং মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক কর্মকর্তা অঞ্জলী কউর।

জানা গেছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বালুখালী আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-৯) পৌঁছে প্রথমে জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধন সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তা ক্যাম্পের পরিবেশ-পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

সেখান থেকে ইউএনএইচসিআরের পুষ্টিকেন্দ্র, ডব্লিউএফপির ইভাউচার আউটলেট, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) রোহিঙ্গা কালচারাল মেমোরি সেন্টার ও ইউএনএফপিএর উইমেন অ্যান্ড গার্লস সেইফ স্পেস সেন্টার পরিদর্শন করেন তারা।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যতনের মুখে এভাবেই পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী : ফাইল ছবি

বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১১) একটি কমিউনিটি সেন্টারে অন্তত ২৫ জন রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষের সঙ্গে বৈঠক করেন উজরা জেয়া। উপস্থিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১২ জন আশ্রয়শিবিরের ভেতরে গড়ে তোলা বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মসজিদের ইমাম ও শিক্ষক। এ সময় রোহিঙ্গা নারী ছিলেন সাতজন।

জানা গিয়েছে, উজরা জেয়া তাদের শিক্ষক ও ইমাম কাছে জানতে চেয়েছেন, আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গারা ঠিকমতো ধর্মকর্ম করতে পারছেন কি না? আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন? জবাবে তারা বলেছেন, আশ্রয়শিবিরে স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম করা গেলেও নিরাপত্তার অভাব খুবই। প্রায় প্রতিদিন খুনখারাবি, অপহরণ, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মিয়ানমারের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে রোহিঙ্গারা মারা যাচ্ছেন। পুলিশের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

আরেকজন রোহিঙ্গা নারী বলেন, বৈঠকে তিনি উজরা জেয়াকে বলেছেন, আশ্রয়শিবিরে দাতাগোষ্ঠীর সাহায্য কমিয়ে দেওয়ায় সাধারণ রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। মিয়ানমারে ফেরানোর লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে যত দিন থাকতে হয়, তত দিন যেন রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতা আগের মতো থাকে, সেই সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প : ফাইল ছবি

বৈঠকে কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বর্বর নির্যাতন, অত্যাচার, গণহত্যা ও নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার যে মামলা চলমান, তা দ্রুত কার্যকর (নিষ্পত্তি) করতে উজরা জেয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। একজন রোহিঙ্গা নেতা আশ্রয়শিবিরে শিশুশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলেছেন।

জবাবে উজরা জেয়া রোহিঙ্গাদের বলেন, আইসিসির বিচার ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চলমান প্রক্রিয়া। সবকিছু তাদের পর্যবেক্ষণে আছে। এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা নেতাদের ধৈর্য ধরতে বলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

বৈঠকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) একাংশের চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জুবাইর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তিনি উজরা জেয়ার কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেন।

বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় : ফাইল ছবি

বৈঠক শেষে জুবাইর সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে আমরা রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দিয়েছি উজরার কাছে। চিঠিতে আমরা প্রত্যাবাসন দ্রুত কার্যকর করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা দ্রুত নিজেদের জন্মভূমিতে (রাখাইন) ফিরতে চাই। কিন্তু সেটা হতে হবে নিরাপত্তার সঙ্গে, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফর ঘিরে আশ্রয়শিবিরে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে ৮ এপিবিএনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (অপারেশন ও মিডিয়া) মো. ফারুক আহমেদ বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এ সতর্কতা। সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরের প্রবেশপথ ও ভেতরের সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

Uzra Jeya visited the Rohingya camp : উজরা জেয়া শোনলেন নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির কথা

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩

‘রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বর্বর নির্যাতন, অত্যাচার, গণহত্যা ও নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন’

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কথা শুনলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন উজরা জেয়া। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি। বালুখালী ও আশপাশের তিনটি আশ্রয়শিবির এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শরণার্থী সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উজরা জেয়া। এর আগে বাংলাদেশে আসেন গত মঙ্গলবার।

আশ্রয়শিবির পরিদর্শনকালে অন্তত ২৫ জন রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন উজরা। বৈঠকে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের ওপর চালানো গণহত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের বর্ণনা দেন। পাশাপাশি নিরাপদ, টেকসই ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা

সকাল ৯টার দিকে উজরা জেয়ার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধিদল ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সড়কপথে সরাসরি উখিয়ার বালুখালী (ক্যাম্প-৯) আশ্রয়শিবিরে যান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনান্ড লু এবং মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক কর্মকর্তা অঞ্জলী কউর।

জানা গেছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বালুখালী আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-৯) পৌঁছে প্রথমে জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধন সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তা ক্যাম্পের পরিবেশ-পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

সেখান থেকে ইউএনএইচসিআরের পুষ্টিকেন্দ্র, ডব্লিউএফপির ইভাউচার আউটলেট, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) রোহিঙ্গা কালচারাল মেমোরি সেন্টার ও ইউএনএফপিএর উইমেন অ্যান্ড গার্লস সেইফ স্পেস সেন্টার পরিদর্শন করেন তারা।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যতনের মুখে এভাবেই পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী : ফাইল ছবি

বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১১) একটি কমিউনিটি সেন্টারে অন্তত ২৫ জন রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষের সঙ্গে বৈঠক করেন উজরা জেয়া। উপস্থিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১২ জন আশ্রয়শিবিরের ভেতরে গড়ে তোলা বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মসজিদের ইমাম ও শিক্ষক। এ সময় রোহিঙ্গা নারী ছিলেন সাতজন।

জানা গিয়েছে, উজরা জেয়া তাদের শিক্ষক ও ইমাম কাছে জানতে চেয়েছেন, আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গারা ঠিকমতো ধর্মকর্ম করতে পারছেন কি না? আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন? জবাবে তারা বলেছেন, আশ্রয়শিবিরে স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম করা গেলেও নিরাপত্তার অভাব খুবই। প্রায় প্রতিদিন খুনখারাবি, অপহরণ, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মিয়ানমারের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে রোহিঙ্গারা মারা যাচ্ছেন। পুলিশের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

আরেকজন রোহিঙ্গা নারী বলেন, বৈঠকে তিনি উজরা জেয়াকে বলেছেন, আশ্রয়শিবিরে দাতাগোষ্ঠীর সাহায্য কমিয়ে দেওয়ায় সাধারণ রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। মিয়ানমারে ফেরানোর লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে যত দিন থাকতে হয়, তত দিন যেন রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতা আগের মতো থাকে, সেই সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প : ফাইল ছবি

বৈঠকে কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বর্বর নির্যাতন, অত্যাচার, গণহত্যা ও নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার যে মামলা চলমান, তা দ্রুত কার্যকর (নিষ্পত্তি) করতে উজরা জেয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। একজন রোহিঙ্গা নেতা আশ্রয়শিবিরে শিশুশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলেছেন।

জবাবে উজরা জেয়া রোহিঙ্গাদের বলেন, আইসিসির বিচার ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চলমান প্রক্রিয়া। সবকিছু তাদের পর্যবেক্ষণে আছে। এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা নেতাদের ধৈর্য ধরতে বলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

বৈঠকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) একাংশের চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জুবাইর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তিনি উজরা জেয়ার কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেন।

বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় : ফাইল ছবি

বৈঠক শেষে জুবাইর সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে আমরা রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দিয়েছি উজরার কাছে। চিঠিতে আমরা প্রত্যাবাসন দ্রুত কার্যকর করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা দ্রুত নিজেদের জন্মভূমিতে (রাখাইন) ফিরতে চাই। কিন্তু সেটা হতে হবে নিরাপত্তার সঙ্গে, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফর ঘিরে আশ্রয়শিবিরে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে ৮ এপিবিএনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (অপারেশন ও মিডিয়া) মো. ফারুক আহমেদ বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এ সতর্কতা। সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরের প্রবেশপথ ও ভেতরের সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।