Mandira Paulchowdhury : প্রতিথযশা নৃত্যশিল্পী মন্দিরা পলচৌধুরী
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২ ৩৮৫ বার পড়া হয়েছে
এ. এইচ. ঋদ্ধিমান
প্রাচীন মুদ্রাটির সঙ্গে তার শাস-প্রশ্বাসের মিতালী। শৈশব-কৈশোরে শিরা উপশিরায় বহমান এক চাঞ্চল্য। চৌকাঠ পেরুনোর সনদ পেয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে কঠিন অনুশীলন। এক পর্যায়ে দায়িত্বশীল হয়ে ওঠা। সঙ্গে অনুশীলন আর এগিয়ে চলার গতি। এখন তিনি মন্দিরা পালচৌধুরী। প্রতিথযশা নৃত্যশিল্পী। দুর্গাপুরে তার সাধনার ‘নৃত্য মন্দির’ ও ‘দুর্গাপুর ট্রুপ’। ছ’টি শাখায় নাচের চাষাবাদ। অতিমারির কবলে দু’বছর হাত-পা গুটিয়ে নেওয়া। চলতি বছর থেকে ফের স্বাভাবিক চলার প্রনান্তকর চেষ্টা।

নৃত্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন তিনি। প্রতিটি মুদ্রায় আগামীর স্বপ্ন। দেহ, মন মিশে গিয়েছে নৃত্যের ছন্দে। ধ্যানজ্ঞান বলতে একটাই ‘নৃত্য’। দুর্গাপুরে তার সাধনার মন্দির গড়ে তুলেছেন। এই নৃত্য মন্দির ঘিরেই তার বসবাস। দুুর্গাপুর ব্যালে ট্রুপ নিবন্ধনের সঙ্গে এখন সহযোগী নৃত্য মন্দির। বলা যায় ৮৩ সালে সূচনা। প্রাচীন শিল্পকলার চর্চায় নিজেকে জড়িয়ে নিয়ে তার ক্লান্তিহীন পথচলা।
নৃত্যের ইতিহাস প্রাচীন। মানুষের বিভিন্ন আচার উৎসবে নৃত্যকলার প্রমান পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনেও নৃত্যকলার প্রমাণ রয়েছে। নৃত্য মানুষের মনোজাগতিক প্রকাশভঙ্গি। ঐতিহাসিক এই বিষয়গুলোকে ধারন করে স্বাচ্ছন্দে মিশে গিয়েছেন। শৈশব-কৈশোরের ভাবনা এবং বাবা-মা ও দিদিদের সহযোগিতায় আজ একজন সফল নৃত্য শিল্পী মন্দিরা পালচৌধুরী। মোলায়েম কণ্ঠে উচ্চারণ শিল্পীর।

দীর্ঘা শ্বাস শিল্পীর। আহত গলায় অনুচ্চ উচ্চারণ, অতিমারির কারণে টানা দু’বছর সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অন লাইন নির্ভর ক্লাস। চলতো খণ্ডকালীন। এ বছরের এপ্রিলে পর্দা ওঠে নৃত্য মন্দিরের। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে প্রধান শাখা নৃত্য মন্দির ও দুর্গাপুর ব্যালে ট্রুপসহ অন্যান্য শাখা মিলিয়ে ১২৫ জন শিক্ষার্থী। শাখাগুলো হচ্ছে, নৃত্য মন্দির, বিধান নগর, দুর্গাপুর চার্চ, ফরিদপুর, খাদরাহ, বেলঘরিয়া ও কলকাতা। অতিমারিতে এমন একটা পরিস্থিতি মুখোমুখি হতে হয়, যখন বিল্ডিংয়ের ভাড়া পরিশোধ করা সম্ভব হতো না। এখন সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

নাচের প্রেরণা মানুষের মধ্যে বিবর্তন শুরুর আগে আদিম যুগের মানুষদের মধ্যে ছিল। আদি মানব সভ্যতা জন্মের আগে থেকেই নাচ নানা আচার-অনুষ্ঠান উদ্যাপন এবং বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে নাচের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়, যেমন ভারতে ৩০,০০০ বছরের পুরানো ভীমবেটকা প্রস্তরক্ষেত্র চিত্রকর্ম এবং মিশরীয় সমাধির চিত্রগুলিতে খ্রিষ্টপূর্ব ৩,৩০০ বছর আগের নৃত্যের চিত্র তাই চিত্রিত করে। অনেক সমসাময়িক নৃত্যের রূপ প্রাচীন ঐতিহাসিক, লোক নৃত্য, আনুষ্ঠানিক নৃত্য, এবং জাতিগত নৃত্যে পাওয়া যায়।

খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ সালে অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত পাণিনি। এই গ্রন্থটি আদিতম নাচ সম্পর্কিত গ্রন্থ হচ্ছে নটসূত্র, যার উল্লেখ পাওয়া যায়। ভারতের জাতীয় একাডেমী আট প্রকারের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যকে ধ্রুপদী নৃত্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ছবি শিল্পীর সৌজন্যে
মন্দিরা পলচৌধুরী, টেগর অ্যাভিনিউ, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ ভারত

























