ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

Female fetus : নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি মানব সমাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০২২ ২৮৬ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অগ্নিশিখা

‘নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি মানব সমাজ,   নারীর সাহায্য বিনা এই পৃথিবীতে মানব হয়ে জন্মানোর কারো সাধ্য নেই, নারীই তার শরীর চিরে রক্তে ভেজা ভ্রুনকে এই পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন এবং সযত্নে বড় করে তোলেন’

এই পৃথিবীর অর্ধেক আকাশ নারীর আর অর্ধেক আকাশ পুরুষের, যা বিধাতার দান। এতোদিন কবিরা এই কথাটি বলে এসেছেন, তা সর্বোপরি ভুল। আমিই বোধহয় প্রথম এ কথার তীব্র প্রতিবাদ করছি। জানি আমার এ কথাটি অনেকের মেনে নিতে কষ্ট হবে। এটা বিধাতার দান নয়, এটা পুরোপুরো নারীর দান।

কারণ, সমগ্র বিশ্বের পুরো মানব সমাজ নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি হয়েছে। ক্ষেত্রে কারো সাধ্য নেই নারীর সাহায্য বিনা এই পৃথিবীতে মানব হয়ে জন্মানোর। নারীই তার শরীর চিরে রক্তে ভেজা ভ্রুনকে এই পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন এবং সযত্নে বড় করে তোলেন।

নারী-পুরুষে মিলিতভাবে অর্ধেক নয়, পুরো আকাশ। বীর্য দান করার সুবাদে সে দখলদারি নিতে চায় পুরো পৃথিবীর! ভুলে যায় তার জন্ম বৃত্তান্তের জীবনের কথা। যেখানে সে দশ মাস দশ দিন পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায় নারীর গর্ভেই ছিল। হাজারো যন্ত্রণা সহ্য করে নারী তার শরীরের পুষ্টি দান করে গিয়েছেন। আজ ভাবতে অবাক লাগে এসব কথা প্রতিটি পুরুষ জেনেও নারীর ওপর এতো বিধি নিষেধের ঘেরাটোপ, এতো অত্যাচার কেন?

সীতা মা এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বলেছিলেন ‘হে ধরণী দ্বিধা হও আমি প্রবেশ করি’ কিন্তু আমরা এ যুগের নারী পাতালে প্রবেশ নয়, বলি হে পুরুষ লজ্জিত হও এখোনো সাবধান হও, না হলে প্রনয়ী নও ক্রীতদাস বানিয়ে রাখবো এটা আমাদের অঙ্গীকার।

পৃথিবীতে নারী অসাধ্য কোন কাজ নেই। যেদিন এই সত্য প্রতিটি নারী বুঝতে পারবে, সেদিন সত্যিই এ পৃথিবী অন্য রকম হবে। সেদিন সত্যিই আমরা বলতে পারবো-সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্। নারী ও পুরুষের মিলিত চেতনাই তো জন্ম দেবে এক নতুন ইভ আর আদমের পৃথিবীকে।

জানি এতে নারী পুরুষের ক্রোমোজোম এর খেলা আছে অর্ধেক অর্ধেক, কিন্তু সেটা তো অস্বীকার করিনি। তাই বলে এতো গগনচুম্বী আস্ফালন আর যে সহ্য হয়না। নারীরও অধিকার আছে, সৃষ্টিতে শুধু ক্রোমোজমের খেলাই শেষ কথা নয়, দশ মাস দশ দিন যে সৃষ্টিকে রক্ষা করে চলেছে, তাকে ভুলে যাওয়াটা আমাদের লজ্জা।

লেখক : অগ্নিশিখা, সাহিত্যিক ও সমাজ সেবক

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Female fetus : নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি মানব সমাজ

আপডেট সময় : ০৬:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০২২

অগ্নিশিখা

‘নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি মানব সমাজ,   নারীর সাহায্য বিনা এই পৃথিবীতে মানব হয়ে জন্মানোর কারো সাধ্য নেই, নারীই তার শরীর চিরে রক্তে ভেজা ভ্রুনকে এই পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন এবং সযত্নে বড় করে তোলেন’

এই পৃথিবীর অর্ধেক আকাশ নারীর আর অর্ধেক আকাশ পুরুষের, যা বিধাতার দান। এতোদিন কবিরা এই কথাটি বলে এসেছেন, তা সর্বোপরি ভুল। আমিই বোধহয় প্রথম এ কথার তীব্র প্রতিবাদ করছি। জানি আমার এ কথাটি অনেকের মেনে নিতে কষ্ট হবে। এটা বিধাতার দান নয়, এটা পুরোপুরো নারীর দান।

কারণ, সমগ্র বিশ্বের পুরো মানব সমাজ নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি হয়েছে। ক্ষেত্রে কারো সাধ্য নেই নারীর সাহায্য বিনা এই পৃথিবীতে মানব হয়ে জন্মানোর। নারীই তার শরীর চিরে রক্তে ভেজা ভ্রুনকে এই পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন এবং সযত্নে বড় করে তোলেন।

নারী-পুরুষে মিলিতভাবে অর্ধেক নয়, পুরো আকাশ। বীর্য দান করার সুবাদে সে দখলদারি নিতে চায় পুরো পৃথিবীর! ভুলে যায় তার জন্ম বৃত্তান্তের জীবনের কথা। যেখানে সে দশ মাস দশ দিন পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায় নারীর গর্ভেই ছিল। হাজারো যন্ত্রণা সহ্য করে নারী তার শরীরের পুষ্টি দান করে গিয়েছেন। আজ ভাবতে অবাক লাগে এসব কথা প্রতিটি পুরুষ জেনেও নারীর ওপর এতো বিধি নিষেধের ঘেরাটোপ, এতো অত্যাচার কেন?

সীতা মা এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বলেছিলেন ‘হে ধরণী দ্বিধা হও আমি প্রবেশ করি’ কিন্তু আমরা এ যুগের নারী পাতালে প্রবেশ নয়, বলি হে পুরুষ লজ্জিত হও এখোনো সাবধান হও, না হলে প্রনয়ী নও ক্রীতদাস বানিয়ে রাখবো এটা আমাদের অঙ্গীকার।

পৃথিবীতে নারী অসাধ্য কোন কাজ নেই। যেদিন এই সত্য প্রতিটি নারী বুঝতে পারবে, সেদিন সত্যিই এ পৃথিবী অন্য রকম হবে। সেদিন সত্যিই আমরা বলতে পারবো-সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্। নারী ও পুরুষের মিলিত চেতনাই তো জন্ম দেবে এক নতুন ইভ আর আদমের পৃথিবীকে।

জানি এতে নারী পুরুষের ক্রোমোজোম এর খেলা আছে অর্ধেক অর্ধেক, কিন্তু সেটা তো অস্বীকার করিনি। তাই বলে এতো গগনচুম্বী আস্ফালন আর যে সহ্য হয়না। নারীরও অধিকার আছে, সৃষ্টিতে শুধু ক্রোমোজমের খেলাই শেষ কথা নয়, দশ মাস দশ দিন যে সৃষ্টিকে রক্ষা করে চলেছে, তাকে ভুলে যাওয়াটা আমাদের লজ্জা।

লেখক : অগ্নিশিখা, সাহিত্যিক ও সমাজ সেবক