Cyclone : গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে রূপ নিতে পারে
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২ ২৩৭ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগ্রহ
বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপ থেকে ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। যা কিনা আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিজ্ঞানিরা। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল। দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত এবং নদী বন্দরগুলোতে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত বার্তা জারি করা হয়েছে। গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি চলে এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) অধীন জাতিসংঘের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের ১৩টি দেশের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা এস্কেপ ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়ে থাকে। নামের ক্রম অনুযায়ী এবার ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তার নাম হবে ‘সিত্রাং’। ‘সিত্রাং’ নামটি থাইল্যান্ডের দেওয়া।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আন্দামান সাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি গভীর নিম্নচাপ আকারে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু’-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
ঢাকার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রবিবার সকালে গভীর নিম্নচাপটি আগের চেয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে এসেছে। এটি শনিবার ছিল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে। এদিন সকালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। একইভাবে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এখন আছে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর এখন আছে ৮৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্ব্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় আমরা সতর্কতা সংকেত বাড়ানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, ২৫ অক্টোবর সিত্রাং বাংলাদেশ উপকূলের তিন কোনা কোস্ট এবং সন্দ্বীপের মধ্য দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এর প্রভাবে ২৪ অক্টোবর থেকে উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে এবং পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুরও ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়াতে ভারী বৃষ্টি এবং কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের সময় বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার।






















