ভূমধ্যসাগরে ভাসমান ২৬৪ বাংলাদেশি উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৯:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১ ২৫১ বার পড়া হয়েছে
ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ
সাগরের নোনাজলে জীবন উৎসর্গ করেই স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রায় নেমেছেন ছিলেন তারা। লিবিয়া ও তিউনিশিয়ার উপকূল থেকে অভিবাসীদের এই যাত্রা ইউরোপ প্রবেশের অন্যতম গেটওয়ে ইতালি। দেশটিতে প্রবেশের জন্য পারি দিতে হয় ভূমধ্যসাগর। অভিবাসীদের বহন করা নৌকাগুলো সরাসরি লিবিয়া থেকে না গিয়ে প্রায়শই তিউনিশিয়া উপকূল হয়ে বিপদজনক অবস্থায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেবার চেষ্টা করে।
এজন্য তাদেরকে অবৈধ পথ বেচে নিতে হয়। উত্তাল ভূমধ্যসাগর পারি দিতে গিয়ে বৃহস্পতিবার নৌকা ডুবির ঘটনার পর তিউনিশিয়ার কোস্ট গার্ড ভূমধ্যসাগরে ভাসমান ২৬৪ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এসময় তিন মিসরীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়।
অভিবাসন প্রত্যাশীদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে এসে রেড ক্রিসেন্টের হাতে তুলে দেয়া হয়। তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাদের পরবর্তী ঠিকানা ডিটেনশন সেন্টার। যারা বাংলাদেশে ফিরতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের পাঠানোর উদ্যোগ নেবে আইএমও। সংস্থাটি জানিয়েছে, গেল তিন মাসে তিউনিশিয়ার জলসীমা থেকে ৪৮৫ জন ইউরোপগামী অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি ও মিসরীয়রা লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির পথে রওনা হয়েছিলেন। ভূমধ্যসাগরে তাদের ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তিউনেসিয়ার কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, উদ্ধার হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশিরা নৌকায় করে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের বহন করা নৌকা সাগরে ভেঙে গেলে তারা সাগরে ভাসছিলেন। সে অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য রেড ক্রিসেন্টের তিউনেসিয়ায় আশ্রয়শিবির তৈরি করেছে। আশ্রয়শিবির গুলোতে ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষ সেখানে অবস্থান করছেন। এর আগে ১০ জুন ১৬৪ বাংলাদেশিকে তিউনিসিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।
যারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার আগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় গত ১৮ মে ৩৬ জন এবং ২৭ ও ২৮ মে ২৪৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। সব মিলিয়ে এ মুহূর্তে তিউনিসিয়ায় ৭০৭ বাংলাদেশি রয়েছেন।

এ ছাড়া গত মাসে লিবিয়ার অবৈধ অভিবাসন দমন বিভাগের (ডিসিআইএম) কর্মকর্তারা আলজেরিয়ার সীমান্তবর্তী মরু এলাকা দারাসে অপহরণকারীদের কবল থেকে ৮৬ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। তারা বেনগাজি হয়ে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পথে অপহরণকারীদের কবলে পড়েছিলেন। তারা লিবিয়ায় রয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশের ১৯ হাজার ৬১ জন ইতালিতে পৌঁছেছেন। এই তালিকার শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের ২ হাজার ৬০৮ জন ইউরোপে পৌঁছেছেন।
এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রার সময় অন্তত ৮১০ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যানুসারে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৮১৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। মানব পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া ১৬০ বাংলাদেশি গত মে মাসে আইওএমের সহায়তায় দেশে ফেরেন।
২০১৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সংস্থাটির সহায়তায় ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ২ হাজার ৯০০ বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।























