উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ৩৬ শতাংশই বেকার, স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রায় ৯ লাখ
- আপডেট সময় : ১০:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর আকার বাড়লেও সে অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় শ্রমবাজারে বাড়ছে বেকারত্বের চাপ। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও তাদের বড় একটি অংশ যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ পাচ্ছেন না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। উচ্চশিক্ষার বিস্তারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় অর্থনীতিতে ক্রমেই বড় চাপ হয়ে উঠছে ‘গ্র্যাজুয়েট গ্লাট’ বা ডিগ্রিধারী জনশক্তির আধিক্য।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মাধ্যমিক-পরবর্তী বা উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ।
অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন উচ্চশিক্ষিত তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জনই কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার থেকে ৯ লাখ। সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান সংকট দেশের শ্রমবাজারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
আইএমএফের ‘গ্র্যাজুয়েটিং ইনটু আনসার্টেনটি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা সামগ্রিক তরুণ বেকারত্বের হারের সাড়ে তিন গুণেরও বেশি। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায়ও এ হার বেশি। তুলনামূলকভাবে ইন্দোনেশিয়ায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ১৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১৬, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ১৩, ফিলিপাইনে ১২ এবং সিঙ্গাপুরে ৮ শতাংশ। তবে ভারতে এ হার বাংলাদেশের চেয়ে বেশি, প্রায় ৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপে দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাবে, দেশে মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ বেকারের সংখ্যা ২০ লাখ ৩২ হাজার। এ তরুণ বেকারদের প্রায় ২৯ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী। সংখ্যার হিসাবে দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারের পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার থেকে ৯ লাখের কাছাকাছি।
তবে আইএমএফ ও বিবিএসের পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আইএমএফের ৩৬ শতাংশ পরিসংখ্যানটি উচ্চশিক্ষিত তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেকারত্বের হার নির্দেশ করে। অন্যদিকে বিবিএসের হিসাবে প্রায় ৯ লাখ স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার বলতে মোট বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চশিক্ষিতদের সংখ্যাকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ দুটি পরিসংখ্যানের ভিত্তি ও হিসাবের ধরন এক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটলেও সে অনুপাতে দক্ষতাভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় এ সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়া, শিক্ষাক্রমের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য এবং ব্যবহারিক দক্ষতার ঘাটতির কারণে তাদের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না।
ফলে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে তৈরি হচ্ছে গ্র্যাজুয়েট গ্লাট বা ডিগ্রিধারী জনশক্তির আধিক্য। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প ও সেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।









