নজরুলের সাম্যের বাণী বুকে ধারণ করে শিক্ষার আলো ছড়াতে চান মঞ্জুরুল কবীর
- আপডেট সময় : ০১:১১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেটের নেওয়াজ হালিমা আরলীর হাতে সম্মাননা তুলে দিচ্ছেন বুজরুক শ্রীকুন্ডী মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি প্রকৌশলী মঞ্জুরুল কবীর
বুজরুকের আকাশে যেন অনুরণিত হচ্ছে বিশ্বমানবতার কবি, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উচ্চারণ ‘বল বীর–বল উন্নত মম শির’। আবার ভেসে আসছে সাম্যের অমর বাণী ‘গাহি সাম্যের গান/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।’ কখনোবা শোনা যাচ্ছে, ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু–মুসলমান।’ এসব উচ্চারণ যেন শুধু কবিতার পঙক্তি নয়, বরং একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও আলোকিত সমাজ নির্মাণের প্রত্যয়।
সেই বাণীর মূর্ছনায় একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ মনোমুগ্ধের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। চোখে–মুখে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার দীপ্ত শপথ। ভেজা চোখে সামনের সবুজ প্রান্তরে গড়ে ওঠা স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুজরুক শ্রীকুন্ডী মহাবিদ্যালয়ের দিকে অপলক তাকিয়ে আছেন প্রকৌশলী মঞ্জুরুল কবীর। একের পর এক শিক্ষার্থী কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে কলেজের মাঠ। তাদের চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রত্যয়ে কাজ করে চলেছেন মঞ্জুরুল কবীর।
তার বিশ্বাস, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ–টেবিল কিংবা পরীক্ষার ফলাফলের নাম নয়। একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি জনপদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারখানা। এখান থেকেই তৈরি হয় চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক, উদ্যোক্তা, সাংবাদিক ও সমাজের নানা পেশার দক্ষ মানুষ। সবচেয়ে বড় কথা, এখান থেকেই তৈরি হয় দায়িত্বশীল নাগরিক।
এই উপলব্ধি থেকেই বুজরুক শ্রীকুন্ডী মহাবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন মঞ্জুরুল কবীর। তার স্বপ্ন বড় কোনো বিশাল তহবিলের ওপর দাঁড়িয়ে নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সমাজ পরিবর্তনের অদম্য প্রত্যয়ের ওপর দাঁড়িয়ে। তিনি মনে করেন, আন্তরিকতা থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও মানুষের জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব।
তার স্বপ্ন, একদিন এই কলেজটি শুধু স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিত হবে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফল করবে না, তারা ভালো মানুষ হয়ে বের হবে। দেশ–বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম।

মঞ্জুরুল কবীরের চিন্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নারী। তিনি মনে করেন, একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যায়, যখন সেই সমাজের নারী ও পুরুষ সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। নারীকে করুণা করার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন তাকে সম্মান, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুযোগ দেওয়া।
এই ভাবনারই একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে কলেজে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনামূল্যে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করেছেন তিনি। মেশিনে বোতাম চাপলেই প্রয়োজনীয় স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করা যাবে। আপাতদৃষ্টিতে ছোট উদ্যোগ হলেও এর সামাজিক তাৎপর্য অনেক বড়। কারণ, মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকোচ, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা কিংবা প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে অনেক কিশোরী ও নারী নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। অনেক সময় এ কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতিও ব্যাহত হয়।
মঞ্জুরুল কবীরের ভাবনায় নারীকে শুধু ‘নারী’ হিসেবে দেখলে চলবে না, তাকে দেখতে হবে একজন মানুষ, একজন সহযোদ্ধা এবং সমাজের সমান অংশীদার হিসেবে। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও নারী–পুরুষের সমঅধিকারের কথা বলেছেন। তার অমর উচ্চারণ ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির–কল্যাণকর/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ এই দর্শনের মধ্যেই রয়েছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজের ভিত্তি। নারী ও পুরুষ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তারা পরস্পরের পরিপূরক। সংসার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র সব ক্ষেত্রেই তাদের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন বলেন, মঞ্জুরুল কবীর।
মঞ্জুরুল কবীর বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ নজরুল ইসলামের জীবনও ছিল সংগ্রাম ও বৈচিত্র্যে ভরা। মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে তিনি যে বিপুল সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তা বাংলা সাহিত্যে অনন্য। কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধসহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় ছিল তার বিচরণ। মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার কথা বলেছেন। বিদ্রোহী চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন বাঙালির চিরন্তন প্রেরণার উৎস।
মঞ্জুরুল কবীরের সমাজভাবনায় সেই মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারই প্রতিফলন দেখা যায়। তার কাছে শিক্ষা মানে শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয়, শিক্ষা মানে মানুষের মধ্যে বিবেক, দায়িত্ববোধ, আত্মমর্যাদা ও মানবিকতা তৈরি করা।
বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা সুযোগের অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী মাঝপথে হারিয়ে যায়। তাদের অনেকেই সামান্য সহযোগিতা পেলে জীবনে বড় কিছু করতে পারে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে এসব শিক্ষার্থীর