সংসদে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদ মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১০:১৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়।
মিছিলটিতে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তার বক্তব্যের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে কোনো জেলার মানুষ বা স্থানীয় কোনো ঘটনাকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।
সমাবেশ থেকে হাসনাত আবদুল্লাহকে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা।
তবে এ ঘোষণার মধ্যেই শনিবার বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচিটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাসনাত আবদুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। এসব ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় তিনি সরকারের সমালোচনা করেন এবং সরকারের ব্যর্থতার বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন।
তার ওই বক্তব্যের পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই এ কর্মসূচি পালন করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভের কারণে শনিবারের এনসিপির নির্ধারিত কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।



















