বই ছাপায়ও সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, বাড়তি খরচ ৩ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০৯:২৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার দরপত্রে ছাপাখানা মালিকদের মধ্যে সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে অষ্টম ও নবম শ্রেণির একাধিক লটে একক দরপত্র জমা পড়ায় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মো. রাব্বানী জব্বারের মালিকানাধীন আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেড আটটি লটে একক দরদাতা হিসেবে অংশ নিয়েছে বলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই ছাপার আটটি লটে আনন্দ প্রিন্টার্স ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়নি। এসব লটে প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি দর দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি কাজ পেলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা।
এনসিটিবির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের প্রতি ফর্মা বা আট পৃষ্ঠার প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ টাকা ৮৮ পয়সা। দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাক্কলিত দরের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কম বা বেশি দর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আনন্দ প্রিন্টার্স আটটি লটে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৮-৯ শতাংশ বেশি দর দিয়েছে।
তিনি বলেন, ওই আটটি লটে ১৫ লাখের বেশি বই রয়েছে। এসব বই ছাপার কাজ আনন্দ প্রিন্টার্সকে দেওয়া হলে সরকারের প্রায় ৩ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হতে পারে। ছাপাখানাগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে লট ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাব্বানী জব্বার সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই। ২০২১ সালে নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাঠ্যবই ছাপার কাজের সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এর আগেও আলোচনা ছিল।
এদিকে একক দরপত্র এবং তুলনামূলক বেশি দর দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনন্দ প্রিন্টার্সের আটটি লটের দরপত্র বাতিলের সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটি। বাতিল হলে এসব লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র খোলার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেগুলো মূল্যায়ন করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি সরকারি ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কোনো লটে পুনঃদরপত্রের প্রয়োজন হলে তা করা হবে। কাউকে সিন্ডিকেট করে লাভবান হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণির ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি এবং নবম শ্রেণির ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই রয়েছে। এসব পাঠ্যবই ছাপাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।
অভিযোগের বিষয়ে আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. রাব্বানী জব্বারের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।



















