জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
- আপডেট সময় : ১২:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
রোববার বঙ্গভবনে উঠবেন রাষ্ট্রপতি
সদ্য শপথ নেওয়া দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ করেন।
শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছান। এ সময় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় তাকে স্বাগত জানানো হয়। স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনের এ সময় জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল নতুন রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। একই সঙ্গে বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। নীরব পরিবেশে সেই সুর যেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী লাখো মানুষের স্মৃতিকে আরও গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। রাষ্ট্রপতির এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে সরাসরি মিন্টু রোডের বাসভবনে আসেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে উঠবেন। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির সরকারি দায়িত্ব পালনের নতুন অধ্যায় আরও আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিক রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের দিন সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে তার প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জীবনে জাতীয় স্মৃতিসৌধ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ এবং জাতির অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি প্রতীক। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মান আবারও প্রকাশ পেল।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থাও ছিল জোরদার। সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মসূচিগুলোর একটি হিসেবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করায় তার দায়িত্ব গ্রহণের সূচনাটিও হয়ে উঠেছে ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, নীরবতা পালন, রাষ্ট্রীয় সালাম, বিউগলের করুণ সুর এবং বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে শনিবারের কর্মসূচিতে ফুটে ওঠে শ্রদ্ধা, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশের প্রতি প্রত্যয়ের এক প্রতীকী বার্তা।


















