ভাগ্যবদলের স্বপ্নে ঘরছাড়া ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
ইউরোপের স্বপ্নে ঘরছাড়া, পথে দালালের নির্যাতন-শেষ ঠিকানা কখনো নীল ভূমধ্যসাগর
একটি উন্নত জীবনের স্বপ্ন। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর আকাঙ্ক্ষা। নিজের ও স্বজনদের ভাগ্য বদলে দেওয়ার প্রত্যাশা। এসব স্বপ্নকে সামনে রেখে প্রতিবছর অসংখ্য বাংলাদেশি তরুণ পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপের পথে। বৈধ অভিবাসনের সুযোগ না পেয়ে কিংবা দ্রুত ইউরোপে পৌঁছানোর প্রলোভনে অনেকে বেছে নিচ্ছেন মানব পাচারকারীদের দেখানো বিপজ্জনক পথ।
বাংলাদেশ থেকে প্রথমে মধ্যপ্রাচ্য, এরপর লিবিয়া, সেখান থেকে ছোট, ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি, গ্রিস কিংবা ইউরোপের অন্য দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা। এই যাত্রার শুরুতে থাকে স্বপ্ন, কিন্তু অনেকের শেষ হয় বন্দিদশা, নির্যাতন, মুক্তিপণের দাবিতে পরিবারের ওপর চাপ, সাগরে নিখোঁজ হওয়া কিংবা মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বলছে, ভূমধ্যসাগর এখন শুধু ইউরোপে প্রবেশের একটি পথ নয়; অনেক বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য এটি পরিণত হয়েছে জীবন-মৃত্যুর অনিশ্চিত সমুদ্রপথে।
২০২১: একের পর এক উদ্ধার, ভয়াবহ ঝুঁকির স্পষ্ট চিত্র
২০২১ সালে ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের বিপজ্জনক যাত্রার একাধিক ঘটনা সামনে আসে। জুন মাসে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে শত শত বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়।

২৪ জুন তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে একটি নৌকা থেকে ২৬৪ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়। নৌকাটি বিকল হয়ে সাগরে ভাসছিল। এর কয়েক দিন পর আরও ৮৩ বাংলাদেশিকে তিউনিসীয় নৌবাহিনী উদ্ধার করে। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় মাত্র কয়েক মাসে তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে ৫৬৮ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
এর আগে জুন মাসেই লিবিয়ার কোস্টগার্ড কয়েকটি নৌকা থেকে ১৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৩৯ অভিবাসীকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরে লিবিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়। একই ঘটনায় তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবির পর ৬৮ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হলেও ১৩ বাংলাদেশি নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া যায়।
এসব ঘটনা দেখিয়ে দেয়, ২০২১ সালেই বাংলাদেশিদের জন্য লিবিয়া-তিউনিসিয়া-ইউরোপ সমুদ্রপথ কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল।
২০২২: সাগরে মৃত্যু, তবু থামেনি যাত্রা
২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে একটি নৌকায় সাত বাংলাদেশি মারা যান। ইতালির উপকূলরক্ষীরা ল্যাম্পেদুসার কাছে নৌকাটি উদ্ধার করার পর তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে নিহত সাতজনের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়। তাঁরা মাদারীপুর, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন।
একই বছর মে মাসে তিউনিসিয়ার উপকূলে লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী একটি ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা থেকে ৩২ বাংলাদেশিসহ ৮১ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। ব্র্যাকের তথ্য উদ্ধৃত করে তখন বলা হয়েছিল, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা করেছিলেন। একই সূত্রের হিসাবে, প্রতিবছর প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি ওই রুট থেকে উদ্ধার হচ্ছিলেন।

অর্থাৎ উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা যতটা দৃশ্যমান, নিখোঁজ ও অজানা পরিণতির সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
২০২৩: নৌকাডুবি ও নিখোঁজের বছর
২০২৩ সালেও লিবিয়া থেকে ইতালিগামী নৌযানে বাংলাদেশিদের বিপজ্জনক যাত্রার একাধিক ঘটনা ঘটে। মার্চে একটি নৌকাডুবির পর ১৭ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ। তবে একই ঘটনায় আরও অনেকে নিখোঁজ হন এবং প্রায় ৩০ জন ডুবে মারা যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়।
আগস্টে তিউনিসিয়ার উপকূলে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় নরসিংদীর নয় বাংলাদেশি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর আগে জুনের একটি নৌকাডুবির ঘটনায় নরসিংদীর সাতজন নিখোঁজ এবং একজনের মৃত্যুর খবরও আসে।
এ বছরটি আরও একটি বাস্তবতা সামনে আনে, সাগরে দুর্ঘটনার পর সব মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। ফলে পরিবারের কাছে অনেক সময় মৃত্যুর নিশ্চিত খবরও পৌঁছায় না; বছরের পর বছর তাঁরা অপেক্ষায় থাকেন প্রিয়জনের ফেরার আশায়।
২০২৪: বাংলাদেশিরাই অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীগোষ্ঠী
২০২৪ সালে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। IOM ও UNHCR-এর যৌথ হিসাবে, ওই বছর কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬০৪টি সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা নথিভুক্ত হয়। এই রুটে যাত্রাকারীদের প্রধান জাতীয়তার মধ্যে বাংলাদেশিরা ছিল অন্যতম। একই বছরে এই রুটে ১ হাজার ৮৪২ জন মৃত বা নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত হন।
বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৪ সালের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ফেব্রুয়ারিতে। লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে যাওয়া একটি নৌকা তিউনিসিয়ার উপকূলে দুর্ঘটনার শিকার হলে আট বাংলাদেশি নিহত হন। একই ঘটনায় ২৭ বাংলাদেশিসহ ৪৪ জনকে উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মরদেহ পরে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৪ সালে বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ইউরোপে পৌঁছেছিলেন। UNHCR-এর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১১ হাজার ২৩১ বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছান, তাঁদের ১১ হাজার ৯১ জন লিবিয়া থেকে যাত্রা করেছিলেন। ২০২৩ সালের পুরো বছরে সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছেছিলেন ১২ হাজার ৭৭৪ বাংলাদেশি।
অর্থাৎ বিপদ জানা সত্ত্বেও এই যাত্রা থামেনি।

২০২৫: মৃত্যুর পাশাপাশি সামনে আসে পাচার ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র
২০২৫ সালে সমুদ্রযাত্রার পাশাপাশি লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের ওপর মানব পাচারকারীদের নির্যাতনের ঘটনাও সামনে আসে। পাঁচ বাংলাদেশি ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়ায় গিয়ে পাচারকারীদের হাতে বন্দি হন। তাঁদের কাছ থেকে পরিবারের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকা বিকল হয়ে তাঁরা তিউনিসীয় কোস্টগার্ডের হাতে উদ্ধার হন এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরেন। তাঁদের একজন জানান, পরিবার ঋণ ও জমি বন্ধক রেখে ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয়েছিল।
২০২৫ সালের শেষ দিকে আরও ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটে। লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাওয়া একটি নৌকায় খাদ্য ও পানির সংকটে দুই বাংলাদেশি মারা যান বলে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রায় ৪০ বাংলাদেশি ওই নৌযানে ছিলেন। যাত্রাপথে নৌকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তাঁরা দীর্ঘ সময় খাবারহীন অবস্থায় ছিলেন। চরম তৃষ্ণার মধ্যে ভুল করে পেট্রল পান করায় দুইজনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হন।
২০২৬: সর্বশেষ ট্র্যাজেডি আবারও মনে করিয়ে দিল মৃত্যুর মুখে যাত্রার কথা
গত মার্চের ঘটনা এই সংকটকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি রাবারের নৌকা প্রায় ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে উদ্ধার হয়। ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, তাঁদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি।
কিন্তু একই নৌযানে থাকা ২২ জনের মৃত্যু হয় বলে জীবিতরা জানান। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি না থাকা এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। পরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
পরবর্তী তদন্তে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানব পাচার চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারও করেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, শুধু সমুদ্রের ঝুঁকি নয়, দেশের মাটি থেকে শুরু হওয়া একটি সংগঠিত পাচারব্যবস্থাও এসব মৃত্যুর পেছনে সক্রিয়।

পাঁচ বছরে আসল চিত্র কতটা ভয়াবহ?
২০২১ থেকে ২০২৫ এই পাঁচ বছরে ভূমধ্যসাগরীয় রুটে বাংলাদেশিদের নিহত, নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়ার পূর্ণাঙ্গ জাতীয়তাভিত্তিক সরকারি হিসাব এক জায়গায় পাওয়া যায় না। তবে আন্তর্জাতিক তথ্য পরিস্থিতি ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাবে ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ১ হাজার ৮৪২ জন এবং ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫২৬ জন মৃত বা নিখোঁজ ছিলেন। ২০২৪ সালের প্রধান যাত্রাকারী জাতীয়তার ভিত্তিতে বাংলাদেশিদের অবস্থান ছিলো শীর্ষে।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হিসাবে পুরো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ২০২১ সালে ৩ হাজার ২৩১, ২০২২ সালে ৩ হাজার ১৭, ২০২৩ সালে ৪ হাজার ১১০, ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৫৮০ এবং ২০২৫ সালে ২ হাজার ৯৫০ জন মৃত বা নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন। এসব সংখ্যা সব দেশের অভিবাসী মিলিয়ে এবং শুধু বাংলাদেশিদের নয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশিদের ইউরোপে পৌঁছানোর সংখ্যা এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার প্রবণতা বেশি। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ২৪ হাজার ৩১৮ বাংলাদেশি সমুদ্র ও স্থলপথ মিলিয়ে ইউরোপে পৌঁছেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫৯ শতাংশ বেশি। তাঁদের ৮৩ শতাংশ ইতালি এবং ১৬ শতাংশ গ্রিসে পৌঁছান।
স্বপ্নের পেছনে ঋণ, শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে পরিবার
এই যাত্রার সবচেয়ে করুণ দিকটি শুধু সাগরে প্রাণহানি নয়। একজন তরুণ যখন ইউরোপে যাওয়ার জন্য ঘর ছাড়েন, তখন তাঁর পরিবার অনেক সময় জমি বিক্রি করে, বন্ধক রেখে কিংবা সুদে ঋণ নিয়ে দালালকে লাখ লাখ টাকা দেয়।
তারপর শুরু হয় দ্বিতীয় অধ্যায় লিবিয়ায় বন্দিদশা, মারধর, নির্যাতন এবং মুক্তিপণের দাবি। পরিবারের সামর্থ্য থাকলে টাকা দিয়ে স্বজনকে উদ্ধার করার চেষ্টা চলে। কারও ভাগ্যে ফিরে আসা জোটে, কারও ভাগ্যে জোটে মরদেহ। আর কেউ নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবারের অপেক্ষারও শেষ থাকে না।
ফলে একজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়, এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক পতন, মানসিক বিপর্যয় এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

প্রয়োজন নিরাপদ অভিবাসনের বাস্তব সুযোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই এই সংকটের সমাধান হবে না। বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, বিদেশে চাকরির সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় পর্যায়ে দালাল চক্রের আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করা এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।
একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মসংস্থান, ভিসা, নিয়োগকর্তা ও যাত্রাপথ যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। কারণ ইউরোপের পথে একটি অবৈধ নৌযাত্রার পেছনে যে টাকা ব্যয় হয়, সেই অর্থ দিয়ে অনেক সময় বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরি করা সম্ভব।
শেষ কথা
ভূমধ্যসাগরের ঢেউয়ে ভেসে যায় শুধু একটি নৌকা নয়, ভেসে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, সঞ্চয়, ভবিষ্যৎ এবং কখনো পুরো একটি প্রজন্মের আশা।
বাংলাদেশি তরুণদের কাছে ইউরোপের স্বপ্ন হয়তো অপরাধ নয়। কিন্তু সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে মানব পাচারকারীরা যখন মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়, তখন বিষয়টি আর অভিবাসনের স্বাভাবিক প্রবাহ থাকে না, তা হয়ে ওঠে মানবিক বিপর্যয়।
তাই প্রশ্ন এখন শুধু ‘কতজন মারা গেলেন’ এতে সীমাবদ্ধ থাকার নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, কেন একজন বাংলাদেশি তরুণকে ভাগ্য বদলাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগরে নামতে হচ্ছে, কেন পরিবারকে জমি বন্ধক রেখে দালালের হাতে টাকা দিতে হচ্ছে এবং কেন নিরাপদ অভিবাসনের পথ তাঁর কাছে এত কঠিন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশি হয়তো আরও বহু বাংলাদেশি পরিবারের স্বপ্নের সমাধিস্থল হয়ে থাকবে।



















