মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি আয়: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:৩২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলো ক্রমেই মিঠাপানির মাছ উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও অত্যন্ত উজ্জ্বল। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মৎস্য খাত দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
রোববার কিশোরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও জাতীয় মৎস্য পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্য খাতের এ সাফল্যের অংশীদার উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি, জেলে, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সবাই। যারা এবারের জাতীয় মৎস্য পদক পেয়েছেন, তাদের পাশাপাশি এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেককে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে মাছ চাষ, আহরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনকে কেন্দ্র করে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে পুকুর, বিল, হাওর-বাঁওড়সহ অসংখ্য জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয়কে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে অল্প জমিতে মাছ চাষের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের যেসব পুকুর, হাওর, বিল ও অন্যান্য জলাশয় বর্তমানে অব্যবহৃত পড়ে আছে, সেগুলো সংস্কার করে মাছের পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যে এলাকার জলাশয়গুলো সংস্কার করা হবে, সেসব জলাশয় ওই এলাকার তরুণদের মধ্যে যথাযথভাবে বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে একদিকে যেমন জলাশয়ের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬ (স্বর্ণপদক) তুলে দেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনা, উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে কিশোরগঞ্জ সফরের পর প্রধানমন্ত্রী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৪টায় পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড ও বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফর শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।



















