ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উপসাগরে নতুন উত্তেজনা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে মুখোমুখি ইরান-আমিরাত বাংলাদেশ-কাতার জ্বালানি ও অর্থখাতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মতি কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের ভাগ্যবদলের স্বপ্নে ঘরছাড়া ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি উদ্যোগ পরিবর্তনের এপ্রিল-মার্চ হচ্ছে নতুন অর্থবছর সমঝোতার মেয়াদ শেষ ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করতে বললেন ট্রাম্প ঘুরে দাঁড়ানোর ছয় মাস “ধ্বংসস্তূপ সামলে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রযন্ত্র পুনর্গঠনের পথে সরকার” মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি আয়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  ফেরনোর প্রক্রিয়া ভারতের সিদ্ধান্ত : চিফ প্রসিকিউটর

জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’

বাণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং প্রবল গণরোষে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ আত্মোৎসর্গকারী হাজারো বীর শহিদকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও গভীর সম্মান ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, তাঁদের বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গত দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।

বাণীতে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সময়ের রাষ্ট্রীয় অনিয়ম, নিপীড়ন, দুর্নীতির ফলে জনমনে সঞ্চিত ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, ভ্রাতা-ভগ্নি, কন্যা-জায়া, জননীসহ সর্বস্তরের মানুষ অসীম সাহস ও ত্যাগের প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন এবং তাঁরা সবাই জুলাই যোদ্ধা।

তিনি বলেন, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। একই সঙ্গে বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান, ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

বাণীর শেষে তিনি বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।  বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০৮:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’

বাণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং প্রবল গণরোষে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ আত্মোৎসর্গকারী হাজারো বীর শহিদকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও গভীর সম্মান ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, তাঁদের বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গত দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।

বাণীতে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সময়ের রাষ্ট্রীয় অনিয়ম, নিপীড়ন, দুর্নীতির ফলে জনমনে সঞ্চিত ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, ভ্রাতা-ভগ্নি, কন্যা-জায়া, জননীসহ সর্বস্তরের মানুষ অসীম সাহস ও ত্যাগের প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন এবং তাঁরা সবাই জুলাই যোদ্ধা।

তিনি বলেন, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। একই সঙ্গে বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান, ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

বাণীর শেষে তিনি বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।  বাসস