এপস্টেইনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ইসরায়েলি ‘ডিপ স্টেট’-এর যোগের ইঙ্গিত ভ্যান্সের
- আপডেট সময় : ০১:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলের ‘ডিপ স্টেট’-এর কিছু অংশের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে তার মনে হয়। জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগানকে দেওয়া প্রায় তিন ঘণ্টার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে মোসাদ, সিআইএ বা অন্য কোনো ‘ডিপ স্টেট’-এর সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নেই, তবে উভয় দেশের গোয়েন্দা মহলের শীর্ষ পর্যায়ে তার যোগাযোগ ছিল বলে ধারণা করা যায়। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন মানুষের কাছে তথ্য উপস্থাপনে ভুল করেছে।
ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইনের বন্ধু শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থি বা ডানপন্থি কোনো এক শিবিরে সীমাবদ্ধ ছিল না; উভয় রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গেই তার সম্পর্ক ছিল। তবে ইসরায়েলে তার রাজনৈতিক যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এপস্টেইন কোনো মার্কিন বা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট ছিলেন—এমন দাবির পক্ষে প্রকাশ্য কোনো নথি তার জানা নেই।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রায় ৩৫ লাখ ‘এপস্টেইন ফাইল’-এও তাকে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে নথিতে দেখা যায়, ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক এবং মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা ইয়োনি কোরেনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ইসরায়েলির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এপস্টেইন বিভিন্ন ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানেও আর্থিক অনুদান দিয়েছিলেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও এর কোনোটি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির প্রসঙ্গও ওঠে। ভ্যান্স বলেন, তিনি মনে করেন না বন্ডি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো তথ্য গোপন করেছিলেন। তবে এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ নিয়ে তিনি অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিয়েছিলেন, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয় এবং প্রশাসনের প্রতি জনসাধারণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভ্যান্স স্বীকার করেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে প্রশাসনের ব্যর্থতা মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে, তবে এর পেছনে তথ্য গোপনের উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি মনে করেন না।



















