গ্রামীণ অসচ্ছল পরিবার পাবে সাশ্রয়ী এলপিজি, বদলাতে পারে রান্নার জ্বালানির চিত্র
- আপডেট সময় : ০১:১০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
গ্রামীণ অসচ্ছল পরিবারের জন্য সুলভমূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ গ্রামীণ পরিবার রান্নার কাজে এখনও কাঠ, খড়কুটো, বাঁশ, পাতা কিংবা ঘুঁটের মতো প্রথাগত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এসব জ্বালানির ব্যবহার একদিকে বন উজাড়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে চুলার ধোঁয়ায় নারী ও শিশুরা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সংক্রমণ, চোখের জ্বালা ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুলভমূল্যে এলপিজি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং গ্রামীণ পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে চিহ্নিত করে ভর্তুকির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কম দামের সিলিন্ডার যাতে কালোবাজারে বিক্রি না হয় বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার না হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, শুধু গ্রামের দরিদ্র মানুষ নয়, শহরের বস্তিবাসীদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা উচিত।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ ধরনের কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে ভারতে দরিদ্র পরিবারের জন্য এলপিজি সংযোগ ও ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। সেখানে সরকার ভর্তুকির অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক হিসাবে পাঠায়, ফলে দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। পাকিস্তানেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে কম দামে এলপিজি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশেও কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, বন ও পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং ধোঁয়াজনিত নানা রোগের ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



















