ঢাকায় যানজটে প্রতিদিন নষ্ট প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, আর্থিক ক্ষতি ১৩৯ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০২:২৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার অধিক ক্ষতি
ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে রাজধানী ঘিরে রিং রোড ও ১৫টি রেডিয়াল রোডের পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব সড়ক নির্মিত হলে রাজধানীর কেন্দ্রভাগের যানবাহনের চাপ কমবে, বাঁচবে সময়। বাড়বে অর্থনৈতিক গতিশীলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ঢাকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃনগর যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে।
প্রায় আড়াই কোটি মানুষের শহর রাজধানী ঢাকা, যেখানে যানজট যার নিত্যসঙ্গী। এখানকার সড়ক যেন অপরিকল্পিত প্রয়োজনের তাগিদে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশের তথ্য বলছে, এই নগরীতে প্রতিদিন যানজট কেড়ে নেয় প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা।
যার অর্থমূল্যে প্রায় ১৩৯ কোটি এবং বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার অধিক। যানজট নিরসন বিষয়ক সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য তুলে ধরেন। গেল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট যানজটের অভিশাপ থেকে পরিত্রাণে করণীয় শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
নগরীর যানজট নিরসনে এবার রাজধানীকে ঘিরে রিং রোড ও ১৫টি রেডিয়াল রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রিং রোড হলো বৃত্তাকার সড়ক বা একাধিক সড়কের সমষ্টি। যা নগরের কেন্দ্র ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। যার মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব নগরীর ভেতরকার যানজট।
ঢাকার তীব্র যানজট কমাতে গাবতলী থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ৮ লেনের একটি ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণাধীন। এটি গাবতলী থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যানবাহনগুলোকে আর মূল শহরের ভেতরে ঢুকতে হবে না।
শুধু তাই নয় আউটার রিং রোড ধারণাকে বিস্তৃত করে রাজধানীকে ঘিরে ১৫টি রেডিয়াল রোডের পরিকল্পনা করছে সরকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রিং রোড দুটি ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার যোগাযোগ তৈরি করবে, আর রেডিয়াল রোডগুলো শহরের কেন্দ্র থেকে আশপাশের জেলা ও উপশহরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে ঢাকার।
যেগুলোর মধ্যে রয়েছে আফতাবনগর, ডেমরা, আশকোনা, দিয়াবাড়ি, বিরুলিয়া, আশুলিয়া, বছিলা, মাওয়া মহাসড়ক, পূর্বাচল ও মাদানী অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ করিডোর।
সরকারের নতুন এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন নগরবাসী। তবে শুধু আশ্বাস নয়, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা। নগরবাসীর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যানজট অনেকটাই কমবে।
রাস্তা সম্প্রসারণ ও নতুন সড়ক নির্মাণ হলে সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে। এটি সরকারের জন্য নয়, দেশের মানুষের এবং দেশের উন্নয়নের জন্যই করা হচ্ছে। তাই দ্রুত কাজ শেষ হলে ভোগান্তি কমবে এবং মানুষ স্বস্তি পাবে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সড়ক নির্মাণ করলেই হবে না; এর সঙ্গে গণপরিবহন, আবাসন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পরিকল্পনাও নিতে হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, অনেক সময় নতুন সড়ক নির্মাণের পর তার আশপাশে নতুন নতুন স্থাপনা গড়ে ওঠে, ফলে সড়কের কার্যকারিতা কমে যায়।
তাই ঢাকার টেকসই নগর ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে এসব সড়ক দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকে এবং নতুন করে চাপ সৃষ্টি না করে।
রাজধানীর জন্য রিং রোড ও রেডিয়াল রোড প্রকল্পকে ভবিষ্যতের গেমচেঞ্জার হিসেবে দেখছে সরকার। তবে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকল্পটির সফলতা আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



















