ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় যানজটে প্রতিদিন নষ্ট প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, আর্থিক ক্ষতি ১৩৯ কোটি টাকা মানবিক সহায়তা-শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের আইনের জালে পুলিশ দম্পতি অসহায় গৃহকর্মীর ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন কৃষিই দেশের অর্থনীতির প্রাণ কৃষিই দেশের অর্থনীতির প্রাণ: কৃষিতে অতীতের তুলনায় সর্ববৃহৎ বাজেটের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রাথমিক সমঝোতার পর বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম, চাঙা শেয়ারবাজার পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়তে ডিএসসিসির নতুন পদক্ষেপ, বর্জ্য অপসারণে জোর শিশুহত্যার অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে ঘিরে আদিতমারীতে রণক্ষেত্র, এসপিসহ আহত ২০ ইরান-মার্কিন চুক্তি আলোচনায় তিন হাজার কোটি ডলার রাজশাহীর আম ও কালাইরুটি স্বাদে মুগ্ধ মার্কিন অতিথি   বেনজীরকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানো প্রক্রিয়া চলছে: উপদেষ্টা

ঢাকায় যানজটে প্রতিদিন নষ্ট প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, আর্থিক ক্ষতি ১৩৯ কোটি টাকা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকায় যানজটে নষ্ট প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, আর্থিক ক্ষতি ১৩৯ কোটি টাকা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার অধিক ক্ষতি

ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে রাজধানী ঘিরে রিং রোড ও ১৫টি রেডিয়াল রোডের পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব সড়ক নির্মিত হলে রাজধানীর কেন্দ্রভাগের যানবাহনের চাপ কমবে, বাঁচবে সময়। বাড়বে অর্থনৈতিক গতিশীলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ঢাকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃনগর যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

প্রায় আড়াই কোটি মানুষের শহর রাজধানী ঢাকা, যেখানে যানজট যার নিত্যসঙ্গী। এখানকার সড়ক যেন অপরিকল্পিত প্রয়োজনের তাগিদে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশের তথ্য বলছে, এই নগরীতে প্রতিদিন যানজট কেড়ে নেয় প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা।

যার অর্থমূল্যে প্রায় ১৩৯ কোটি এবং বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার অধিক। যানজট নিরসন বিষয়ক সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য তুলে ধরেন।  গেল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট যানজটের অভিশাপ থেকে পরিত্রাণে করণীয় শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

নগরীর যানজট নিরসনে এবার রাজধানীকে ঘিরে রিং রোড ও ১৫টি রেডিয়াল রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রিং রোড হলো বৃত্তাকার সড়ক বা একাধিক সড়কের সমষ্টি। যা নগরের কেন্দ্র ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। যার মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব নগরীর ভেতরকার যানজট।

ঢাকার তীব্র যানজট কমাতে গাবতলী থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ৮ লেনের একটি ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণাধীন। এটি গাবতলী থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যানবাহনগুলোকে আর মূল শহরের ভেতরে ঢুকতে হবে না।

শুধু তাই নয় আউটার রিং রোড ধারণাকে বিস্তৃত করে রাজধানীকে ঘিরে ১৫টি রেডিয়াল রোডের পরিকল্পনা করছে সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রিং রোড দুটি ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার যোগাযোগ তৈরি করবে, আর রেডিয়াল রোডগুলো শহরের কেন্দ্র থেকে আশপাশের জেলা ও উপশহরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে ঢাকার।

যেগুলোর মধ্যে রয়েছে আফতাবনগর, ডেমরা, আশকোনা, দিয়াবাড়ি, বিরুলিয়া, আশুলিয়া, বছিলা, মাওয়া মহাসড়ক, পূর্বাচল ও মাদানী অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ করিডোর।

সরকারের নতুন এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন নগরবাসী। তবে শুধু আশ্বাস নয়, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা। নগরবাসীর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যানজট অনেকটাই কমবে।

রাস্তা সম্প্রসারণ ও নতুন সড়ক নির্মাণ হলে সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে। এটি সরকারের জন্য নয়, দেশের মানুষের এবং দেশের উন্নয়নের জন্যই করা হচ্ছে। তাই দ্রুত কাজ শেষ হলে ভোগান্তি কমবে এবং মানুষ স্বস্তি পাবে।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সড়ক নির্মাণ করলেই হবে না; এর সঙ্গে গণপরিবহন, আবাসন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পরিকল্পনাও নিতে হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, অনেক সময় নতুন সড়ক নির্মাণের পর তার আশপাশে নতুন নতুন স্থাপনা গড়ে ওঠে, ফলে সড়কের কার্যকারিতা কমে যায়।

তাই ঢাকার টেকসই নগর ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে এসব সড়ক দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকে এবং নতুন করে চাপ সৃষ্টি না করে।

রাজধানীর জন্য রিং রোড ও রেডিয়াল রোড প্রকল্পকে ভবিষ্যতের গেমচেঞ্জার হিসেবে দেখছে সরকার। তবে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকল্পটির সফলতা আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঢাকায় যানজটে প্রতিদিন নষ্ট প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, আর্থিক ক্ষতি ১৩৯ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০২:২৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার অধিক ক্ষতি

ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে রাজধানী ঘিরে রিং রোড ও ১৫টি রেডিয়াল রোডের পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব সড়ক নির্মিত হলে রাজধানীর কেন্দ্রভাগের যানবাহনের চাপ কমবে, বাঁচবে সময়। বাড়বে অর্থনৈতিক গতিশীলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ঢাকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃনগর যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

প্রায় আড়াই কোটি মানুষের শহর রাজধানী ঢাকা, যেখানে যানজট যার নিত্যসঙ্গী। এখানকার সড়ক যেন অপরিকল্পিত প্রয়োজনের তাগিদে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশের তথ্য বলছে, এই নগরীতে প্রতিদিন যানজট কেড়ে নেয় প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা।

যার অর্থমূল্যে প্রায় ১৩৯ কোটি এবং বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার অধিক। যানজট নিরসন বিষয়ক সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য তুলে ধরেন।  গেল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট যানজটের অভিশাপ থেকে পরিত্রাণে করণীয় শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

নগরীর যানজট নিরসনে এবার রাজধানীকে ঘিরে রিং রোড ও ১৫টি রেডিয়াল রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রিং রোড হলো বৃত্তাকার সড়ক বা একাধিক সড়কের সমষ্টি। যা নগরের কেন্দ্র ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। যার মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব নগরীর ভেতরকার যানজট।

ঢাকার তীব্র যানজট কমাতে গাবতলী থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ৮ লেনের একটি ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণাধীন। এটি গাবতলী থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যানবাহনগুলোকে আর মূল শহরের ভেতরে ঢুকতে হবে না।

শুধু তাই নয় আউটার রিং রোড ধারণাকে বিস্তৃত করে রাজধানীকে ঘিরে ১৫টি রেডিয়াল রোডের পরিকল্পনা করছে সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রিং রোড দুটি ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার যোগাযোগ তৈরি করবে, আর রেডিয়াল রোডগুলো শহরের কেন্দ্র থেকে আশপাশের জেলা ও উপশহরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে ঢাকার।

যেগুলোর মধ্যে রয়েছে আফতাবনগর, ডেমরা, আশকোনা, দিয়াবাড়ি, বিরুলিয়া, আশুলিয়া, বছিলা, মাওয়া মহাসড়ক, পূর্বাচল ও মাদানী অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ করিডোর।

সরকারের নতুন এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন নগরবাসী। তবে শুধু আশ্বাস নয়, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা। নগরবাসীর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যানজট অনেকটাই কমবে।

রাস্তা সম্প্রসারণ ও নতুন সড়ক নির্মাণ হলে সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে। এটি সরকারের জন্য নয়, দেশের মানুষের এবং দেশের উন্নয়নের জন্যই করা হচ্ছে। তাই দ্রুত কাজ শেষ হলে ভোগান্তি কমবে এবং মানুষ স্বস্তি পাবে।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সড়ক নির্মাণ করলেই হবে না; এর সঙ্গে গণপরিবহন, আবাসন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পরিকল্পনাও নিতে হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, অনেক সময় নতুন সড়ক নির্মাণের পর তার আশপাশে নতুন নতুন স্থাপনা গড়ে ওঠে, ফলে সড়কের কার্যকারিতা কমে যায়।

তাই ঢাকার টেকসই নগর ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে এসব সড়ক দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকে এবং নতুন করে চাপ সৃষ্টি না করে।

রাজধানীর জন্য রিং রোড ও রেডিয়াল রোড প্রকল্পকে ভবিষ্যতের গেমচেঞ্জার হিসেবে দেখছে সরকার। তবে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকল্পটির সফলতা আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।