ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে রোদে স্বস্তি, ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরের কৃষক গেরুয়া ঝড়ে ভেঙে পড়ল তৃণমূলের দুর্গ, শক্ত অবস্থানে বিজেপি কলকাতায় বিজয় মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, মাংসের দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: নাটকীয় উত্থানে আলোচনায় মোতাব শেখ তামিলনাড়ুতে ৭ মে নতুন ইনিংস শুরু করছেন বিজয় থালাপাতি পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ রূপপুর বালিশ কাণ্ডসহ ৩৮ সংস্থার অডিট প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর হাতে ২০ লাখ টাকার লোভে চাকরির স্বপ্ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার নতুন কৌশলে সক্রিয় চক্র ১৬ বছরের স্থানীয় সরকার খাতের দুর্নীতির তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে রোদে স্বস্তি, ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরের কৃষক

জাকিয়া সুলতানা, ধর্মপাশা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে রোদে স্বস্তি, ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরের কৃষক

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা মধ্যনগর উপজেলায় টানা ছয় দিনের বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকাল থেকে রোদ উঠায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। তবে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণে তাদের দুশ্চিন্তা এখনও কাটেনি।

গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ অতিবৃষ্টিতে দুই উপজেলার হাওরের একমাত্র বোরো ফসলের বড় অংশ তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি নদনদীর পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আবারও বৃষ্টিপাত বন্যার আশঙ্কার কথা জানানোয় উদ্বেগ আরও বেড়েছে কৃষকদের মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিনের স্থবিরতার পর রোদ উঠতেই কৃষকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বড় বড় খলাগুলোতে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। নারীপুরুষ সবাই ধান শুকানো, মাড়াই সংরক্ষণের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বাড়ির উঁচু জায়গায় ত্রিপাল বা জাল বিছিয়ে ধান শুকাচ্ছেন।

তবে পরিস্থিতি সহজ নয়। মাঠে পানি জমে থাকা এবং খলা কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর ধান শুকাচ্ছেন। কেউ খলায় জমে থাকা ধান রোদে নেড়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ হাওর থেকে কেটে রাখা ধান নৌকা বা ঠেলাগাড়িতে করে এনে শুকানোর চেষ্টা করছেন।

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে রোদে স্বস্তি, ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরের কৃষক
কৃষকের ব্যস্ততা

কিন্তু দীর্ঘদিন পানিতে থাকার কারণে অনেক ধানে ইতোমধ্যেই চারা গজিয়ে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক সৈয়দ হোসেন জানান, তাঁর খলায় প্রায় ১৪০ মণ ধানে চারা উঠে গেছে। তিনি বলেন, “শ্রমিক সংকটও বড় সমস্যা। ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা মজুরি দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এখন নিজেরাই কাজ করছি, আল্লাহ ভরসা।

মধ্যনগরের দুগনুই গ্রামের কৃষক মো. আকবর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, হাওরে রাখা ধান আনব, নাকি খলায় থাকা নষ্ট ধান শুকাব বুঝতে পারছি না।

স্থানীয়দের দাবি, বছর ভাটি অঞ্চলে ৬০ শতাংশের বেশি বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগের হিসাবের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে।

পরিবেশ হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। শুধু তিন মাসের সহায়তা যথেষ্ট নয়; পরবর্তী মৌসুম পর্যন্ত খাদ্য কৃষি উপকরণ সহায়তা দিলে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে রোদে স্বস্তি, ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরের কৃষক
এখন বুক সমান পানিতে দাড়িয়ে ধান কাটছেন কৃষকরা

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, বৃষ্টির কারণে অনেক ধান সময়মতো কাটা শুকানো সম্ভব হয়নি। এখন রোদ ওঠায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হবে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তিন মাস ,৫০০ টাকা ৩০ কেজি চাল, মধ্যম ক্ষতিগ্রস্তরা ,০০০ টাকা ২০ কেজি চাল এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তরা ,৫০০ টাকা ২০ কেজি চাল পাবেন।

সব মিলিয়ে, সাময়িক রোদে কিছুটা স্বস্তি এলেও হাওরের কৃষকদের সামনে এখনো বড় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে রোদে স্বস্তি, ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরের কৃষক

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা মধ্যনগর উপজেলায় টানা ছয় দিনের বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকাল থেকে রোদ উঠায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। তবে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণে তাদের দুশ্চিন্তা এখনও কাটেনি।

গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ অতিবৃষ্টিতে দুই উপজেলার হাওরের একমাত্র বোরো ফসলের বড় অংশ তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি নদনদীর পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আবারও বৃষ্টিপাত বন্যার আশঙ্কার কথা জানানোয় উদ্বেগ আরও বেড়েছে কৃষকদের মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিনের স্থবিরতার পর রোদ উঠতেই কৃষকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বড় বড় খলাগুলোতে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। নারীপুরুষ সবাই ধান শুকানো, মাড়াই সংরক্ষণের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বাড়ির উঁচু জায়গায় ত্রিপাল বা জাল বিছিয়ে ধান শুকাচ্ছেন।

তবে পরিস্থিতি সহজ নয়। মাঠে পানি জমে থাকা এবং খলা কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর ধান শুকাচ্ছেন। কেউ খলায় জমে থাকা ধান রোদে নেড়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ হাওর থেকে কেটে রাখা ধান নৌকা বা ঠেলাগাড়িতে করে এনে শুকানোর চেষ্টা করছেন।

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে রোদে স্বস্তি, ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরের কৃষক
কৃষকের ব্যস্ততা

কিন্তু দীর্ঘদিন পানিতে থাকার কারণে অনেক ধানে ইতোমধ্যেই চারা গজিয়ে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক সৈয়দ হোসেন জানান, তাঁর খলায় প্রায় ১৪০ মণ ধানে চারা উঠে গেছে। তিনি বলেন, “শ্রমিক সংকটও বড় সমস্যা। ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা মজুরি দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এখন নিজেরাই কাজ করছি, আল্লাহ ভরসা।

মধ্যনগরের দুগনুই গ্রামের কৃষক মো. আকবর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, হাওরে রাখা ধান আনব, নাকি খলায় থাকা নষ্ট ধান শুকাব বুঝতে পারছি না।

স্থানীয়দের দাবি, বছর ভাটি অঞ্চলে ৬০ শতাংশের বেশি বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগের হিসাবের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে।

পরিবেশ হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। শুধু তিন মাসের সহায়তা যথেষ্ট নয়; পরবর্তী মৌসুম পর্যন্ত খাদ্য কৃষি উপকরণ সহায়তা দিলে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে রোদে স্বস্তি, ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরের কৃষক
এখন বুক সমান পানিতে দাড়িয়ে ধান কাটছেন কৃষকরা

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, বৃষ্টির কারণে অনেক ধান সময়মতো কাটা শুকানো সম্ভব হয়নি। এখন রোদ ওঠায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হবে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তিন মাস ,৫০০ টাকা ৩০ কেজি চাল, মধ্যম ক্ষতিগ্রস্তরা ,০০০ টাকা ২০ কেজি চাল এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তরা ,৫০০ টাকা ২০ কেজি চাল পাবেন।

সব মিলিয়ে, সাময়িক রোদে কিছুটা স্বস্তি এলেও হাওরের কৃষকদের সামনে এখনো বড় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।