ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নদীদূষণ রোধে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী হাসিনার বক্তব্য ‘সমর্থন করে না  ভারত,  জানালেন রণধীর জয়সওয়াল হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সময় চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঢাকার বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা কুশিয়ারা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

২০ লাখ টাকার লোভে চাকরির স্বপ্ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার নতুন কৌশলে সক্রিয় চক্র

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি চাকরি-বাংলাদেশের লাখো তরুণ-তরুণীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু এই স্বপ্নকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে সুসংগঠিত প্রতারণার সিন্ডিকেট। চাকরি নিশ্চিতের প্রলোভন দেখিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। গত দেড় দশকে এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছে অসংখ্য পরিবার।

চক্রটি সাধারণত চাকরিপ্রত্যাশী, বিশেষ করে যারা বারবার ব্যর্থ বা হতাশ-তাদের লক্ষ্য করে যোগাযোগ শুরু করে। প্রথমে আস্থা অর্জন, এরপর “নিশ্চিত চাকরি”র আশ্বাস। চুক্তি হয় মোটা অঙ্কে—৫, ১০, কখনও ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পর শুরু হয় জালিয়াতির নানা ধাপ।

সময় বদলের সঙ্গে প্রতারণার কৌশলও হয়েছে আধুনিক। আগে যেখানে প্রশ্নফাঁস বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার বেশি দেখা যেত, এখন সেখানে যুক্ত হয়েছে উচ্চপ্রযুক্তির ডিভাইস। ক্ষুদ্র ব্লুটুথ ইয়ারফোন কানের গভীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যা বাইরে থেকে প্রায় অদৃশ্য। শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকানো থাকে রিসিভার ও মোবাইল সংযোগ। পরীক্ষার সময় বাইরে থাকা সহযোগীরা প্রশ্নের উত্তর সরাসরি পরীক্ষার্থীর কানে পৌঁছে দেয়।
কখনও আবার ভুয়া পরিচয়ে যোগ্য প্রার্থীকে পরীক্ষায় বসানো হয়, এমনকি ছবি ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির ঘটনাও ঘটছে।

গত ২ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমন্বিত নাবিক ভর্তি পরীক্ষায় অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে প্রতিবারের মতো এবারও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, “কানের ভেতরে ইয়ারফোন, মোবাইল সংযোগ—এসবের মাধ্যমে বাইরে থেকে তথ্য আদান-প্রদান করে পরীক্ষায় অংশ নেয় তারা।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।  অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র নিম্নস্তরের সদস্যদের গ্রেফতার করে এই চক্র নির্মূল সম্ভব নয়। প্রয়োজন মূল হোতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, শাস্তি যদি কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক না হয়, তবে এমন অপরাধে জড়াতে অন্যদের ভয় কাজ করবে না। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতারণা ঠেকাতে হলে একইভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

এই চক্রের কারণে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ। রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সিন্ডিকেট আরও বিস্তার লাভ করবে, আর চাকরির স্বপ্ন হয়ে উঠবে আরও অনিশ্চিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২০ লাখ টাকার লোভে চাকরির স্বপ্ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার নতুন কৌশলে সক্রিয় চক্র

আপডেট সময় : ১০:৪০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

সরকারি চাকরি-বাংলাদেশের লাখো তরুণ-তরুণীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু এই স্বপ্নকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে সুসংগঠিত প্রতারণার সিন্ডিকেট। চাকরি নিশ্চিতের প্রলোভন দেখিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। গত দেড় দশকে এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছে অসংখ্য পরিবার।

চক্রটি সাধারণত চাকরিপ্রত্যাশী, বিশেষ করে যারা বারবার ব্যর্থ বা হতাশ-তাদের লক্ষ্য করে যোগাযোগ শুরু করে। প্রথমে আস্থা অর্জন, এরপর “নিশ্চিত চাকরি”র আশ্বাস। চুক্তি হয় মোটা অঙ্কে—৫, ১০, কখনও ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পর শুরু হয় জালিয়াতির নানা ধাপ।

সময় বদলের সঙ্গে প্রতারণার কৌশলও হয়েছে আধুনিক। আগে যেখানে প্রশ্নফাঁস বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার বেশি দেখা যেত, এখন সেখানে যুক্ত হয়েছে উচ্চপ্রযুক্তির ডিভাইস। ক্ষুদ্র ব্লুটুথ ইয়ারফোন কানের গভীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যা বাইরে থেকে প্রায় অদৃশ্য। শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকানো থাকে রিসিভার ও মোবাইল সংযোগ। পরীক্ষার সময় বাইরে থাকা সহযোগীরা প্রশ্নের উত্তর সরাসরি পরীক্ষার্থীর কানে পৌঁছে দেয়।
কখনও আবার ভুয়া পরিচয়ে যোগ্য প্রার্থীকে পরীক্ষায় বসানো হয়, এমনকি ছবি ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির ঘটনাও ঘটছে।

গত ২ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমন্বিত নাবিক ভর্তি পরীক্ষায় অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে প্রতিবারের মতো এবারও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, “কানের ভেতরে ইয়ারফোন, মোবাইল সংযোগ—এসবের মাধ্যমে বাইরে থেকে তথ্য আদান-প্রদান করে পরীক্ষায় অংশ নেয় তারা।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।  অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র নিম্নস্তরের সদস্যদের গ্রেফতার করে এই চক্র নির্মূল সম্ভব নয়। প্রয়োজন মূল হোতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, শাস্তি যদি কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক না হয়, তবে এমন অপরাধে জড়াতে অন্যদের ভয় কাজ করবে না। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতারণা ঠেকাতে হলে একইভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

এই চক্রের কারণে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ। রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সিন্ডিকেট আরও বিস্তার লাভ করবে, আর চাকরির স্বপ্ন হয়ে উঠবে আরও অনিশ্চিত।