দক্ষিণ এশিয়ায় বয়স শ্রেণিতে সেরা আলপি আক্তার, গর্ব ও লড়াইয়ের অনন্য গল্প
- আপডেট সময় : ১১:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৩ বার পড়া হয়েছে
নেপালের পোখারা-য় সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের পর্দা নামার পর বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে ছিল হতাশার ছায়া। ফাইনালে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স না হওয়ায় শিরোপা হাতছাড়া কিশোরীদের চোখে জল, মনে আক্ষেপ। কিন্তু সেই আক্ষেপের মাঝেও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন এক নাম আলপি আক্তার।
৭ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং টুর্নামেন্ট–সেরা খেলোয়াড় দুটি পুরস্কারই উঠেছে পঞ্চগড়ের এই কিশোরীর হাতে। দল চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন, নিজের বয়স শ্রেণিতে এখন দক্ষিণ এশিয়ার সেরাদের কাতারে তাঁর অবস্থান।

সংগ্রাম থেকে সাফল্যের পথে
পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভার এক সাধারণ পরিবারে আলপির বেড়ে ওঠা। বাবা আতাউর রহমানের ছোট চায়ের দোকানের সামান্য আয়ে সংসার চলে কষ্টে-সৃষ্টে। এমন বাস্তবতায় মেয়ের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন অনেকের কাছেই ছিল বিলাসিতা।
সমাজের কটূক্তি ছিল নিত্যসঙ্গী মেয়ে মানুষ হয়ে ফুটবল খেলবে? , চুল ছোট করবে? এমন প্রশ্নে দুলেছে পরিবার। মা-বাবাও শঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু বড় ভাই নূর আলম হয়ে ওঠেন ঢাল। তিনিই সাহস জুগিয়েছেন, স্বপ্ন দেখার অধিকারকে শক্ত করে ধরতে শিখিয়েছেন।

গোলকিপার থেকে গোলমেশিন
আলপির শুরুটা ছিল গোলপোস্টের নিচে। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে খেলেছেন গোলকিপার হিসেবে। পরে বাফুফের নিবন্ধিত বোদা টু স্টার একাডেমির কোচ মোফাজ্জল হোসেন বিপুল তাঁর প্রতিভা চিনে নেন। গোলকিপার থেকে তুলে এনে স্ট্রাইকার বানান। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় আলপির ভাগ্যরেখা।
রংপুর বিভাগের সেরা স্ট্রাইকার হয়ে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৬ দলে সুযোগ পান। সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা। ঢাকায় নারী লিগে রাজশাহী স্টারসের হয়ে ৮ ম্যাচে ২৫ গোল সংখ্যাটিই বলে দেয় তাঁর আক্রমণভাগে ভয়ংকর উপস্থিতির কথা।

মাঠের বাইরে বহুমুখী প্রতিভা
শুধু ফুটবল নয়, দৌড়, হাইজাম্প, লংজাম্প, সাঁতার-সবখানেই সমান দক্ষতা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় রয়েছে ১৮টি সনদ। সামনে এসএসসি পরীক্ষা, কিন্তু তার আগেই তিনি হয়ে উঠেছেন হাজারো মেয়ের অনুপ্রেরণা।
আক্ষেপ, তবু গর্ব
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে শিরোপা না জেতার আক্ষেপ এখনো পোড়াচ্ছে আলপিকে। পোখারা থেকে ভাইকে ফোনে বলেছেন মন খারাপের কথা। কিন্তু পরিবার গর্বে ভরপুর। কারণ তারা জানে এই মেয়েটি লড়াই করে এখানে পৌঁছেছে।
টানাটানির সংসার, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, আর মাঠের কঠিন প্রতিযোগিতা সবকিছুকে ড্রিবল করে আলপি আক্তার আজ প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা আর জেদের কাছে বাধা টেকে না।
চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি হাতছাড়া হলেও, সম্মান আর স্বীকৃতির মঞ্চে তিনি আজ বিজয়ী। দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের বয়স শ্রেণিতে সেরা হওয়ার গর্ব তিনি অর্জন করেছেন ঘাম, অশ্রু আর অদম্য সাহস দিয়ে।
















