ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় ভারতকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর তাগিদ জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি   কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে

খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ইচ্ছাকৃত গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁর চিকিৎসা দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেছেন, ব্যবহৃত একটি ওষুধ কার্যত ‘স্লো পয়জন’-এর মতো কাজ করে খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেন, ম্যাডামকে কি স্লো পয়জন দেওয়া হয়েছিল? আমার উত্তর হচ্ছে, ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামের ওষুধটি তার ফ্যাটি লিভার ডিজিজকে দ্রুত লিভার সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এই ওষুধ তার লিভারের জন্য ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করেছে।”

তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯-এর জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্ময় ও গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখতে পান, তিনি ইতোমধ্যেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, আগের চিকিৎসা নথি অনুযায়ী রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের চিকিৎসায় তাকে নিয়মিত মেথোট্রেক্সেট দেওয়া হচ্ছিল, যা হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেও চালু ছিল। “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ওষুধ বন্ধ করে দিই,” বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়া একই সঙ্গে ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্ত ছিলেন। এ অবস্থায় নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করা ছিল অত্যাবশ্যক। কিন্তু লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ আসার পরও তৎকালীন সরকার-নিযুক্ত চিকিৎসকরা একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি, এমনকি ক্ষতিকর ওষুধটিও বন্ধ করেননি, যা ছিল মারাত্মক অবহেলা।

ডা. সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, এই অবহেলা ছিল ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি, যা খালেদা জিয়ার লিভারের দ্রুত অবনতির জন্য সরাসরি দায়ী। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। এটি তাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, বলেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের চিকিৎসাতেও অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিকেল বোর্ডের কাছে রয়েছে।

ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে আইনগত অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে ডা. সিদ্দিকী তিনটি বিষয় স্পষ্ট করার আহ্বান জানান—কারা সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ছিলেন ও তাদের যোগ্যতা কী ছিল; চিকিৎসাকালে কোন কোন চিকিৎসক সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং সেখানে অবহেলার প্রমাণ আছে কি না; এবং কেন বেগম খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের চিকিৎসা দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি বা কারা এতে বাধা দিয়েছিল।

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নথি আইনগতভাবে জব্দ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবিও জানান।

শেষে তিনি বলেন, আমরা আশা করি, সরকার ম্যাডামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে। কারণ ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ইচ্ছাকৃত গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁর চিকিৎসা দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেছেন, ব্যবহৃত একটি ওষুধ কার্যত ‘স্লো পয়জন’-এর মতো কাজ করে খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেন, ম্যাডামকে কি স্লো পয়জন দেওয়া হয়েছিল? আমার উত্তর হচ্ছে, ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামের ওষুধটি তার ফ্যাটি লিভার ডিজিজকে দ্রুত লিভার সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এই ওষুধ তার লিভারের জন্য ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করেছে।”

তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯-এর জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্ময় ও গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখতে পান, তিনি ইতোমধ্যেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, আগের চিকিৎসা নথি অনুযায়ী রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের চিকিৎসায় তাকে নিয়মিত মেথোট্রেক্সেট দেওয়া হচ্ছিল, যা হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেও চালু ছিল। “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ওষুধ বন্ধ করে দিই,” বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়া একই সঙ্গে ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্ত ছিলেন। এ অবস্থায় নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করা ছিল অত্যাবশ্যক। কিন্তু লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ আসার পরও তৎকালীন সরকার-নিযুক্ত চিকিৎসকরা একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি, এমনকি ক্ষতিকর ওষুধটিও বন্ধ করেননি, যা ছিল মারাত্মক অবহেলা।

ডা. সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, এই অবহেলা ছিল ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি, যা খালেদা জিয়ার লিভারের দ্রুত অবনতির জন্য সরাসরি দায়ী। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। এটি তাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, বলেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের চিকিৎসাতেও অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিকেল বোর্ডের কাছে রয়েছে।

ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে আইনগত অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে ডা. সিদ্দিকী তিনটি বিষয় স্পষ্ট করার আহ্বান জানান—কারা সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ছিলেন ও তাদের যোগ্যতা কী ছিল; চিকিৎসাকালে কোন কোন চিকিৎসক সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং সেখানে অবহেলার প্রমাণ আছে কি না; এবং কেন বেগম খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের চিকিৎসা দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি বা কারা এতে বাধা দিয়েছিল।

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নথি আইনগতভাবে জব্দ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবিও জানান।

শেষে তিনি বলেন, আমরা আশা করি, সরকার ম্যাডামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে। কারণ ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া।