হাদির মৃত্যুতে শাহবাগে প্রতিবাদী ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১২:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২২ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে ছাত্র–জনতা। শুক্রবার সকাল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিল সহকারে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগ মোড় ঘিরে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। হাতে জাতীয় পতাকা, চোখেমুখে ক্ষোভ আর শোক–স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে শাহবাগের আকাশ। ফ্যাসিবাদের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, আওয়ামী লীগের আস্তানা এই বাংলায় হবে না, হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, এমন নানা প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
শনিরআখড়া থেকে আসা মাদ্রাসাছাত্র আশফাকুর রহমান আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, আমরা একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিককে হারিয়েছি। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। প্রতিবাদ জানাতেই ভোরে এখানে চলে এসেছি। শহীদ ওসমান হাদির মতো সাহসী মানুষের মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
রামপুরা থেকে আসা ইমরুল কায়েস বলেন, ওসমান হাদির মৃত্যু পুরো বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা শোককে শক্তিতে পরিণত করব। শহীদ হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাদির মৃত্যু নতুন করে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয় ছাত্র–জনতার মধ্যে। শাহবাগে চলমান এই বিক্ষোভ তারই বহিঃপ্রকাশ।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদীকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।



















