শেখ হাসিনার রায় সামনে রেখে নৈরাজ্য ঠেকাতে আহ্বান ফখরুলের
- আপডেট সময় : ০২:২২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১১০ বার পড়া হয়েছে
আগামীকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং এটিকে রুখে দাঁড়ানো এখন জাতীয় দায়িত্ব।
রোববার (১৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ফখরুল দাবি করেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার বিচার চলছে, এটির রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে কিছু গোষ্ঠী দেশে আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। আমাদের আজকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিভ্রান্তিকর ও অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তার মতে, “বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক ধরনের কনফিউজড পলিটিক্সের মধ্যে আটকে গেছে। এমন সব উপাদান ও ঘটনা যুক্ত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা আত্মার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দেশ আজ এক জটিল ও গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নামে যারা এসেছে, তারা রাজনৈতিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এখনো বলা যায় না। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনই দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করার একমাত্র পথ। সব অনিশ্চয়তার মধ্যেও একটি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হতে পারে, যোগ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে যাতে নির্বাচন ব্যাহত বা বিলম্বিত হয়। দেশের মানুষ এখন একটি নির্বাচিত, জনসমর্থিত সরকারের অপেক্ষায় আছে, বলেন তিনি।
অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, নির্বাচন ছাড়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। নির্বাচিত সরকার না থাকলে আইনশৃঙ্খলা আরও ভেঙে পড়বে।
রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, গণহত্যা মামলার রায়কে ঘিরে একটি মহল নৈরাজ্যের পাঁয়তারা করছে। ছাত্রদের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে তা যেন নষ্ট না হয়।
সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, আসুন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হই। মওলানা ভাসানীর আদর্শ আমাদের পথ দেখায়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব শামসুজ্জামান দুদু। বক্তব্য দেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাতসহ আরও অনেকে।



















