ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

রক্তাক্ত ১৯ মে : শিলচর ভাষা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই: স্বর্ণালী চৌধুরী

অনিরুদ্ধ
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪ ৩০৯ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

১৯ মে। ১৯৬১ সাল। বুকভাঙ্গ নিঃশ্বাসের সঙ্গে সন তারিখ উচ্চারণ করেই কয়েক মুহূর্তো নিরবে তাকিয়ে রইলেন। তার দুই চোখে ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। এক না পাওয়া বেদনা তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে চলেছে। তাহলে কি এতো মানুষের প্রাণ উৎসর্গের কোন মূল্য নেই? একটি দিবস পালনের মধ্যে দিয়েতো প্রাণ উৎসর্গের প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া যায় না! চাই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। শিলচর ভাষা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জে আবেদন করা হবে। লেখালেখি চলছে। একদিন অবশ্যই মিলবে ভাষা শহিদদের স্বীকৃতি দৃঢ় উচ্চারণ স্বর্ণালী চৌধুরী।

১৯৬১ সালের ১৯ মে। উত্তপ্ত শিলচর। বাংলাভাষার অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনটা ছড়িয়ে পড়েছে বরাক উপত্যকাজুড়ে। কিন্তু সেদিন বর্তমান শিলচর রেলস্টেশনের সামনে বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালানো হয়। তাতে একজন নারীসহ ১১জন প্রাণ হারান।

শিলচর ইলোরা হোটেলে ১৯মে উদযাপন কমিটি সভা

ঘটনার দিন শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দিতে হরতাল ও বিক্ষোভে যোগদেন সর্বস্তরের মানুষ। করিমগঞ্জে আন্দোলনকারীরা সরকারি কার্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন, কোর্ট ইত্যাদিতে বিক্ষোভ দেখায়। শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে অহিংস প্রতিরোধ করেছিলেন ভাষার দাবিতে আন্দোলনকারী। সময় বিকাল চারটা। এ সময় স্টেশন পেরুনোর কথা একটি ট্রেনের। কর্মসূচি শেষ হবার কথা ছিল। মানুষ এতোটাই বিক্ষুবদ্ধ ছিলো যে, সেই ট্রেনের একটি টিকিটও কেউ কিনেনি। ভোরের ট্রেনের টিকিটও বিক্রি হয়নি। এরই মধ্যে বিকালে স্টেশনে উপস্থিত অসম রাইফেল। তখন সময় দুপুর আড়াইটা।

কাটিগোরা থেকে ৯জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি লরিতে তারাপুর স্টেশনের (বর্তমানের শিলচর রেলওয়ে স্টেশন) কাছ দিয়ে পার হচ্ছিল। এসময় স্টেশনে অবস্থানকারী আন্দোলনকারীরা সাথীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে দেখে তীব্র প্রতিবাদ করেন। ভয় পেয়ে ট্রাকচালকসহ পুলিশরা বন্দীদের ফেলে পালিয়ে যায়। এর পর উত্তেজিত জনতা ট্রাকটি আগুন ধরিয়ে দেয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় সাথে সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর প্রায় বেলা আড়াইটা নাগাদ স্টেশনের সুরক্ষায় থাকা প্যারামিলিটারি বাহিনী আন্দোলনকারীদেরকে বন্দুক ও লাঠি দিয়ে প্রহার শুরু করে।

এসময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে ১৭ রাউণ্ড গুলি চালায়। তাদের মধ্যে ৯জন ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান এবং দু’জন পরদিন মৃত্যুর কোলে ঢালে পড়ে। ২০ মে শিলচর শহিদদের মরদেহ নিয়ে শোকমিছিল বেন করেন হাজারো শোককাতর মানুষ। এঘটনার পর বরাক উপত্যকা শোকের চাদরে ঢাকা পড়ে। সন্তান হারা বরাক উপত্যকা! কাঁদছে বরাকের মাটি-মানুষ। ইতিহাস তাই স্বাক্ষ দেয়।

এবারে নড়েচড়ে বসলেন শিলচরের বাসিন্দা ও বিশিষ্ট সমাজ চিন্তক স্বর্ণালী চৌধুরী। জানালেন শিলচর ভাষাদিবসের স্বীকৃতি আদায়ে আমরা রাষ্ট্রপুঞ্জে যাবো। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভাষাদিবসের স্বীকৃতি আদায়ই তার লক্ষ্য। স্বর্ণলী চৌধুরী জানালেন, ১৯৫২ সাল বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব বাংলায় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য যে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল এবং প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন সালাম, রফিক, বরকত ও জব্বার। সেই ভাষা আন্দোলনের ৯ বছর পরে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বরাক উপত্যকায় আন্দোলন হয়েছিল। আন্দোলেনে একজন নারীসহ ১১জন বাঙালি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গেছেন ভাষার জন্য। সেই ইতিহাসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমরা চাই।

স্বর্ণালী চৌধুরী বলেন, ১৯৬১ সালে ভারতের আসাম প্রাদেশিক সরকার বরাক উপত্যকা (বরাক ভ্যালি)-র কাছাড় জেলার বাঙালি অধ্যুষিত শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির বাংলাভাষাভাষীদের প্রাণের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে শুধু অহমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা ঘোষণা দিলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাঙালিরা। পরবর্তীতে তা তীব্র আন্দোলনে রূপ নেয়। ১১ শহিদের শোকে স্তব্ধ ও হতবাক হয়ে বরাক উপত্যকার বাঙালিরা। সমগ্র বরাক উপত্যকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ২০ মে শোকার্ত আন্দোলনকারীরা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে শহীদদের মরদেহ নিয়ে শিলচর শহরে লাখো মানুষের শোকমিছিল বের করে।

মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ১১ জন শহীদ হন। তাদের মধ্যে কমলা ভট্টাচার্য পৃথিবীর এক মাত্র নারী ভাষা শহীদ। অপর শহিদরা হচ্ছেন, শচীন্দ্র পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর, কানাইলাল নিয়োগী, চন্ডিচরন সূত্রধর, সত্যেন্দ্র দেব, হীতেশ বিশ্বাস, কুমুদরঞ্জন দাস, তারিণী দেবনাথ, সুনীল সরকার এবং সুকুমার পুরকায়স্থ। আসাম রাজ্য সরকার আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েছিল বাংলাকে ২য় রাজ্যভাষা হিসেবে ঘোষণা দিতে।

ভাষা দিবসে গান্ধীবাগে শহীদ মিনার আলোক সজ্জা

১৯ মে উদযাপন কমিটির তত্ত্বাবধানে শিলচর গান্ধীবাগে শহীদ মিনার আলোক সজ্জায় সজ্জিত হতে যাচ্ছে। এই প্রথম বারের মতো এই উদ্যোগ নিয়েছে শিলচর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। সম্প্রতি উনিশে মে উদযাপন কমিটি ইলোরা হোটেলে ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য, ভাষা সেনানি আবিদ রাজা মজুমদার, উপাচার্য রাজিব মোহন পন্থ, তৈমুর রাজা চৌধুরী, বিজয় কৃষ্ণ নাথ মহুয়া চৌধুরী ও সুমিত্রা দত্তকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে দিল্লিসহ আগরতলা ও বাংলাদেশের অতিথিরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতি কামনা করেছেন ১৯ মে উদযাপন কমিটির কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রক্তাক্ত ১৯ মে : শিলচর ভাষা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই: স্বর্ণালী চৌধুরী

আপডেট সময় : ১০:২৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

 

১৯ মে। ১৯৬১ সাল। বুকভাঙ্গ নিঃশ্বাসের সঙ্গে সন তারিখ উচ্চারণ করেই কয়েক মুহূর্তো নিরবে তাকিয়ে রইলেন। তার দুই চোখে ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। এক না পাওয়া বেদনা তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে চলেছে। তাহলে কি এতো মানুষের প্রাণ উৎসর্গের কোন মূল্য নেই? একটি দিবস পালনের মধ্যে দিয়েতো প্রাণ উৎসর্গের প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া যায় না! চাই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। শিলচর ভাষা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জে আবেদন করা হবে। লেখালেখি চলছে। একদিন অবশ্যই মিলবে ভাষা শহিদদের স্বীকৃতি দৃঢ় উচ্চারণ স্বর্ণালী চৌধুরী।

১৯৬১ সালের ১৯ মে। উত্তপ্ত শিলচর। বাংলাভাষার অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনটা ছড়িয়ে পড়েছে বরাক উপত্যকাজুড়ে। কিন্তু সেদিন বর্তমান শিলচর রেলস্টেশনের সামনে বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালানো হয়। তাতে একজন নারীসহ ১১জন প্রাণ হারান।

শিলচর ইলোরা হোটেলে ১৯মে উদযাপন কমিটি সভা

ঘটনার দিন শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দিতে হরতাল ও বিক্ষোভে যোগদেন সর্বস্তরের মানুষ। করিমগঞ্জে আন্দোলনকারীরা সরকারি কার্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন, কোর্ট ইত্যাদিতে বিক্ষোভ দেখায়। শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে অহিংস প্রতিরোধ করেছিলেন ভাষার দাবিতে আন্দোলনকারী। সময় বিকাল চারটা। এ সময় স্টেশন পেরুনোর কথা একটি ট্রেনের। কর্মসূচি শেষ হবার কথা ছিল। মানুষ এতোটাই বিক্ষুবদ্ধ ছিলো যে, সেই ট্রেনের একটি টিকিটও কেউ কিনেনি। ভোরের ট্রেনের টিকিটও বিক্রি হয়নি। এরই মধ্যে বিকালে স্টেশনে উপস্থিত অসম রাইফেল। তখন সময় দুপুর আড়াইটা।

কাটিগোরা থেকে ৯জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি লরিতে তারাপুর স্টেশনের (বর্তমানের শিলচর রেলওয়ে স্টেশন) কাছ দিয়ে পার হচ্ছিল। এসময় স্টেশনে অবস্থানকারী আন্দোলনকারীরা সাথীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে দেখে তীব্র প্রতিবাদ করেন। ভয় পেয়ে ট্রাকচালকসহ পুলিশরা বন্দীদের ফেলে পালিয়ে যায়। এর পর উত্তেজিত জনতা ট্রাকটি আগুন ধরিয়ে দেয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় সাথে সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর প্রায় বেলা আড়াইটা নাগাদ স্টেশনের সুরক্ষায় থাকা প্যারামিলিটারি বাহিনী আন্দোলনকারীদেরকে বন্দুক ও লাঠি দিয়ে প্রহার শুরু করে।

এসময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে ১৭ রাউণ্ড গুলি চালায়। তাদের মধ্যে ৯জন ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান এবং দু’জন পরদিন মৃত্যুর কোলে ঢালে পড়ে। ২০ মে শিলচর শহিদদের মরদেহ নিয়ে শোকমিছিল বেন করেন হাজারো শোককাতর মানুষ। এঘটনার পর বরাক উপত্যকা শোকের চাদরে ঢাকা পড়ে। সন্তান হারা বরাক উপত্যকা! কাঁদছে বরাকের মাটি-মানুষ। ইতিহাস তাই স্বাক্ষ দেয়।

এবারে নড়েচড়ে বসলেন শিলচরের বাসিন্দা ও বিশিষ্ট সমাজ চিন্তক স্বর্ণালী চৌধুরী। জানালেন শিলচর ভাষাদিবসের স্বীকৃতি আদায়ে আমরা রাষ্ট্রপুঞ্জে যাবো। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভাষাদিবসের স্বীকৃতি আদায়ই তার লক্ষ্য। স্বর্ণলী চৌধুরী জানালেন, ১৯৫২ সাল বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব বাংলায় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য যে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল এবং প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন সালাম, রফিক, বরকত ও জব্বার। সেই ভাষা আন্দোলনের ৯ বছর পরে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বরাক উপত্যকায় আন্দোলন হয়েছিল। আন্দোলেনে একজন নারীসহ ১১জন বাঙালি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গেছেন ভাষার জন্য। সেই ইতিহাসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমরা চাই।

স্বর্ণালী চৌধুরী বলেন, ১৯৬১ সালে ভারতের আসাম প্রাদেশিক সরকার বরাক উপত্যকা (বরাক ভ্যালি)-র কাছাড় জেলার বাঙালি অধ্যুষিত শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির বাংলাভাষাভাষীদের প্রাণের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে শুধু অহমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা ঘোষণা দিলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাঙালিরা। পরবর্তীতে তা তীব্র আন্দোলনে রূপ নেয়। ১১ শহিদের শোকে স্তব্ধ ও হতবাক হয়ে বরাক উপত্যকার বাঙালিরা। সমগ্র বরাক উপত্যকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ২০ মে শোকার্ত আন্দোলনকারীরা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে শহীদদের মরদেহ নিয়ে শিলচর শহরে লাখো মানুষের শোকমিছিল বের করে।

মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ১১ জন শহীদ হন। তাদের মধ্যে কমলা ভট্টাচার্য পৃথিবীর এক মাত্র নারী ভাষা শহীদ। অপর শহিদরা হচ্ছেন, শচীন্দ্র পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর, কানাইলাল নিয়োগী, চন্ডিচরন সূত্রধর, সত্যেন্দ্র দেব, হীতেশ বিশ্বাস, কুমুদরঞ্জন দাস, তারিণী দেবনাথ, সুনীল সরকার এবং সুকুমার পুরকায়স্থ। আসাম রাজ্য সরকার আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েছিল বাংলাকে ২য় রাজ্যভাষা হিসেবে ঘোষণা দিতে।

ভাষা দিবসে গান্ধীবাগে শহীদ মিনার আলোক সজ্জা

১৯ মে উদযাপন কমিটির তত্ত্বাবধানে শিলচর গান্ধীবাগে শহীদ মিনার আলোক সজ্জায় সজ্জিত হতে যাচ্ছে। এই প্রথম বারের মতো এই উদ্যোগ নিয়েছে শিলচর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। সম্প্রতি উনিশে মে উদযাপন কমিটি ইলোরা হোটেলে ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য, ভাষা সেনানি আবিদ রাজা মজুমদার, উপাচার্য রাজিব মোহন পন্থ, তৈমুর রাজা চৌধুরী, বিজয় কৃষ্ণ নাথ মহুয়া চৌধুরী ও সুমিত্রা দত্তকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে দিল্লিসহ আগরতলা ও বাংলাদেশের অতিথিরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতি কামনা করেছেন ১৯ মে উদযাপন কমিটির কর্মকর্তারা।