নড়াইল পৌরবাসীর সেবাই তাঁর ব্রত, মেয়র আঞ্জুমান আরা
- আপডেট সময় : ১১:২৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০২৩ ২৫৫ বার পড়া হয়েছে
আমিনুল হক
২০২১ সাল। দুনিয়াজুড়ে আতঙ্ক। যা আচড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত হলো লকডাউন, রেডজোন, মাস্ক পড়ার সঙ্গে। মানুষে মানুষে দূরত্ব রেখে চলাচল দেখলো বাঙালি জাতি। বাবা-মা বা আপনজনের মরদেহও কেউ স্পর্শ করেনি! পার্শ্ববর্তী দেশে মানুষের মরদেহ জলে ভাসিয়ে দেওয়ার চিত্র দেখা গেছে। রাস্তায় মরদেহের সারি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা বন্ধ! অফিস করতে হচ্ছে ঘরে বসে। সামর্থবানরা মানুষের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেন।
অতিমারিতে গোটা দেশের মানুষ যখন আতঙ্কগ্রস্ত, তখন একজন জনপ্রতিনিধিকে দেখা গেল পুতিগন্ধময় ড্রেনের পাশে বসে আছেন। তার পাশে যারা দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তাদের সবার মুখে মাস্ক। কিন্তু জনপ্রতিনিধির মুখে মাস্ক নেই, তিনি চিন্তিত। কারণ, যে ড্রেনটি পরিষ্কার করানো হচ্ছে, তাতে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে চলাচলের চরম বিঘ্ন ঘটেছে। এমন অবস্থায় ঘরে বসে থাকার জন্য এলাকাবাসী ভোট দিয়ে তাকে মেয়র করেনি।

করোনার ভয় উড়িয়ে দিয়ে পথে নেমে আসলেন, নড়াইল পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা। বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিযোগ করে যতদ্রুত জলাবদ্ধ দূর করতে হবে। তারপরই স্থান ত্যাগ করবেন তিনি। এমন সিদ্ধান্তে অটল থেকে না খেয়ে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে কাজ শেষ করলেন। তারপর স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালেন এই জনপ্রতিনিধি। নড়াইল পৌরসভার নানামুখী উন্নয়নে হাত লাগিয়ে এরই মধ্যে নজির গড়েছেন আঞ্জুমান আরা। নড়াইল পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভার রুপ দিতে দিন রাত কাজ করে চলেছেন।
২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী শপথ নিয়েই এলাকার উন্নয়ন কাজে হাত লাগান আঞ্জুমান আরা। এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারী নড়াইলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

পৌরসভার যে কোন উন্নয়ন কাজ নিজে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন। সে ড্রেন হোক, রাস্তা নির্মাণ হোক। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খেলাধূলায় নড়াইলকে এগিয়ে নিতে নিরলস কাজ করেছে চলেন আঞ্জুমান আরা।
সম্প্রতি নড়াইলের গ্রামে অগ্নিকান্ডে দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা। তাতক্ষনিক খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা প্রদান করেছেন এবং তাদের পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। যুব সমাজের কর্ম কর্মদক্ষতায় স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের বিকল্প নেই। বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবসে নড়াইলে সচেতনতামূলক র্যালী করেছেন। টিকাদান কর্মসূচি সফলে টিকাদান ক্যাম্পেইন করেছেন জোর কদমে।
পৌরসভায় কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জীবনমান রক্ষায় স্থায়ী আবাসন নির্মানের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আঞ্জুমান আরা। সাততলা বিশিষ্ট ডর্মেটরি ভবন নির্মানে গত সোমবার প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক প্রতিনিধিবর্গ।

নড়াইলের জমিদারের প্রতিষ্ঠিত সর্বমঙ্গলা কালী মন্দিরের ১৩৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, স্মরণাতীত কাল থেকে এই দেশের মাটিতে সর্ব ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। সমস্ত কিছুর উর্ধ্বে উঠে, সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোন বিকল্প নেই।

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে নড়াইল পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার জন্য সাধারণ মানুষকে দূরভোগের মুখোমুখি হতে হয়। এসময় আঞ্জুমান আরা জলাবদ্ধ প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে দাড়িয়ে থেকে কাজের তদারকি করেন। প্রতিটি ড্রেন পরিস্কার করে পানি নিষ্কানের ব্যবস্থা করেন। যেখানে পাকা ড্রেন হয়নি, সেসব জায়গায় নালা কেঁটে পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করেন।




















