Inauguration of Padma Bridge : বর্ণিল উৎসবকে সঙ্গী করে দুয়ার খুললো পদ্মা সেতুর
- আপডেট সময় : ০৯:১২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগ্রহ
‘প্রস্তুতি সম্পন্ন, রবিবার ভোর থেকে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল’
আমিনুল হক, ঢাকা
পচিশে জুন দিন বাংলাদেশের আরও একটি মোড় ঘুরানো ইতিহাসের জন্ম দিল। একাত্তরের পর নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণ সক্ষমতার প্রতীক। পদ্মাসেতুর উদ্বোধনকালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মার তীরে উন্মোচিত হল ফলক। এসময় বাতাসে উড়ল রঙিন আবীর। বর্ণিল উৎসবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, ‘যতবারই হত্যা করো, জন্মাবো আবার; দারুণ সূর্য হবো, লিখবো নতুন ইতিহাস’।
প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সূচনা ফলক উন্মোচন করে শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি বীরের জাতি। বাঙালির ইতিহাসের প্রতিটি বাঁক রঞ্জিত হয়েছে ত্যাগ-তিতিক্ষা আর রক্ত ধারায়। কিন্তু বাঙালি আবার সদর্পে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এটি শুধু ইট-সিমেন্ট-স্টিল-কনক্রিটের অবকাঠামো নয়, এ সেতু আমাদের অহঙ্কার, আমাদের গর্ব, আমাদের সক্ষমতা আর মর্যাদার প্রতীক। এ সেতু বাংলোদেশের জনগণের। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে আমাদের আবেগ, সৃজনশীলতা, সাহসিকতা, সহনশীলতা এবং আমাদের প্রত্যয়, জেদ। যে জেদের কারণে আমরা পদ্মাসেতু নির্মাণে সক্ষম হয়েছি। এর আগে শনিবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে মাওয়া প্রান্তে সমাবেশস্থলে পৌছন হাসিনা। সমাবেশটি ছিলো মূলত উৎসবমুখর।

উদ্বোধনী মঞ্চে দাড়িয়ে দেশের মানুষকে ‘স্যালুট’ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের সমর্থন আর সাহসেই তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কঠিন কাজটি সম্ভব করতে পেরেছেন। সেতু নির্মাণ কাজের সাথে যারা জড়িত ছিলেন, যারা এ প্রকল্পের জন্য যারা বাস্তুভিটা ছেড়ে দিয়েছেন, সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। জাতির উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের এই ঐতিহাসিক দিনে যে যার অবস্থান থেকে দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার শপথ নিই, এ দেশের মানুষের ভাগ্য পবির্তন করে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

শত প্রতিকূলতা স্বত্ত্বেও সেতু নির্মাণের সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশি-বিদেশি পরামর্শক, ঠিকাদার, প্রযুক্তবিদ, শ্রমিক, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হাসিনা। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট, স্মারক ব্যাংক নোট, স্যুভেনির শিট, সিলমোহর ও উদ্বোধন খামের মোড়ক উন্মোচন করেন। এরপর প্রথম যাত্রী হিসেবে টোল পরিশোধ করে গাড়ী নিয়ে সেতু এলাকায় প্রবেশ করেন। পদ্মাসেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিমানবাহিনীর বর্ণিল মহড়া উপভোগ করেন। পদ্মার দক্ষিণ প্রান্তে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করে উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। পরে বিশাল সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




















