ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

করোনা-ডেঙ্গুর জোরা সংক্রমণ ঊর্ধমুখি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ ৩১৩ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি : সংগৃহীত

“চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও দ্বিধায় চিকিৎকরা। শীতের আগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকার আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের”

দেশে যখন করোনার সংক্রমণ লাগামহীন, তখনই নয়া বিপদ হামলে পড়ার ঘটনা। দু’বছর কিছুটা থেমে থাকলেও অতিমারিতে ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। করোনা আক্রান্তদের সামালানো নিয়ে যেখানে হিমশিম অবস্থা, সেখানে নতুন করে ডেঙ্গু

উর্ধমুখী সংক্রমণ। এই জোড়া  সংক্রমণে ভয়ানক বিপদের হাত ছানি। এ অবস্থায় চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও দ্বিধায় চিকিৎকরা। শীতের আগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকার আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

চলতি জুলাই মাসেই ১ হাজার ৭২৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যাদের ৯৯ শতাংশই ঢাকার। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৩ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫০ জনই ঢাকার। যা একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক শনাক্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে দেশে অনেকেই ভাবছেন জ্বর মানেই করোনা। আর তাই তারা ডেঙ্গু পরীক্ষা না করে বাসায় অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ করোনা নমুনা পরীক্ষা করালেও ডেঙ্গু পরীক্ষা করাচ্ছেন না। আবার অনেকে করোনা ভেবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খাচ্ছেন। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দেরিতে পরীক্ষার ফলে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় প্লাটিলেটের মাত্রা অনেকটা নেমে যাচ্ছে।


করোনা সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশেষ করে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছে। অনেকেই করোনা এবং ডেঙ্গু দু’টোতেই আক্রান্ত হচ্ছেন। এমন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে চিকিৎসকদের। আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রীতিমত দুর্ভাবনায়

জোরা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। তারা পরিস্থিতিকে বিপদজনক হিসেবেই দেখছেন তারা। এক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও দ্বিধায় চিকিৎসকেরা।

অনেকে করোনা ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে সমস্যা হতেই পারে। কারণ ডেঙ্গু ও করোনার চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা। এক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার ঘটনারও আশঙ্কা তৈরি

হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ৫টি ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ডেঙ্গু ও করোনা আক্রান্ত রোগী এখন অনেক পাওয়া যাচ্ছে। জ্বর হলেই প্রথমে করোনা ও পরে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। এক্ষেত্রে উদাসিনতা ও ঘামখেয়ালিপনা করলে মৃত্যু আশংকাও

উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, করোনা ও ডেঙ্গু দু’টির উপসর্গ প্রায় একই ধরণের হলেও কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। করোনার উপসর্গ হলো জ্বর, সর্দি, কাশি, গলায় ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরে ব্যথা ও ঘ্রাণ না পাওয়া। আর ডেঙ্গুর লক্ষণ হলো, ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি শরীর কাপানো জ্বর, চোখের

পাতার পেছনে ব্যথা ও ব্যাপক পেইন এবং গিড়ায় গিড়ায় ব্যথা। শরীরে র‌্যাশও উঠতে পারে। কোনো কোনো ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হওয়ার চার দিন পর প্লাটিলেট কমে গিয়ে নাক, দাঁত, পায়খানা ও বমির মাধ্যমে রক্তক্ষরণ হতে পারে। করোনা রোগীদের এন্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন

ওষুধ চিকিৎসা সেবায় প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু ডেঙ্গু রোগীর শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে হবে, এসপিরিন জাতীয় ওষুধসহ কোনো ধরনের ব্যাথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না।

তবে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগীর বেশি করে ওরস্যালাইন, ডাব ও অতিরিক্ত পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৫৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। ঢাকায় ৫৫৭ জন, ঢাকার বাইরে ১১ জন। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ২ হাজার ৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি

হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫২৬ জন। এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

করোনা-ডেঙ্গুর জোরা সংক্রমণ ঊর্ধমুখি

আপডেট সময় : ১০:১৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১

ছবি : সংগৃহীত

“চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও দ্বিধায় চিকিৎকরা। শীতের আগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকার আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের”

দেশে যখন করোনার সংক্রমণ লাগামহীন, তখনই নয়া বিপদ হামলে পড়ার ঘটনা। দু’বছর কিছুটা থেমে থাকলেও অতিমারিতে ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। করোনা আক্রান্তদের সামালানো নিয়ে যেখানে হিমশিম অবস্থা, সেখানে নতুন করে ডেঙ্গু

উর্ধমুখী সংক্রমণ। এই জোড়া  সংক্রমণে ভয়ানক বিপদের হাত ছানি। এ অবস্থায় চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও দ্বিধায় চিকিৎকরা। শীতের আগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকার আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

চলতি জুলাই মাসেই ১ হাজার ৭২৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যাদের ৯৯ শতাংশই ঢাকার। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৩ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫০ জনই ঢাকার। যা একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক শনাক্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে দেশে অনেকেই ভাবছেন জ্বর মানেই করোনা। আর তাই তারা ডেঙ্গু পরীক্ষা না করে বাসায় অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ করোনা নমুনা পরীক্ষা করালেও ডেঙ্গু পরীক্ষা করাচ্ছেন না। আবার অনেকে করোনা ভেবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খাচ্ছেন। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দেরিতে পরীক্ষার ফলে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় প্লাটিলেটের মাত্রা অনেকটা নেমে যাচ্ছে।


করোনা সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশেষ করে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছে। অনেকেই করোনা এবং ডেঙ্গু দু’টোতেই আক্রান্ত হচ্ছেন। এমন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে চিকিৎসকদের। আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রীতিমত দুর্ভাবনায়

জোরা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। তারা পরিস্থিতিকে বিপদজনক হিসেবেই দেখছেন তারা। এক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও দ্বিধায় চিকিৎসকেরা।

অনেকে করোনা ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে সমস্যা হতেই পারে। কারণ ডেঙ্গু ও করোনার চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা। এক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার ঘটনারও আশঙ্কা তৈরি

হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ৫টি ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ডেঙ্গু ও করোনা আক্রান্ত রোগী এখন অনেক পাওয়া যাচ্ছে। জ্বর হলেই প্রথমে করোনা ও পরে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। এক্ষেত্রে উদাসিনতা ও ঘামখেয়ালিপনা করলে মৃত্যু আশংকাও

উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, করোনা ও ডেঙ্গু দু’টির উপসর্গ প্রায় একই ধরণের হলেও কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। করোনার উপসর্গ হলো জ্বর, সর্দি, কাশি, গলায় ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরে ব্যথা ও ঘ্রাণ না পাওয়া। আর ডেঙ্গুর লক্ষণ হলো, ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি শরীর কাপানো জ্বর, চোখের

পাতার পেছনে ব্যথা ও ব্যাপক পেইন এবং গিড়ায় গিড়ায় ব্যথা। শরীরে র‌্যাশও উঠতে পারে। কোনো কোনো ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হওয়ার চার দিন পর প্লাটিলেট কমে গিয়ে নাক, দাঁত, পায়খানা ও বমির মাধ্যমে রক্তক্ষরণ হতে পারে। করোনা রোগীদের এন্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন

ওষুধ চিকিৎসা সেবায় প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু ডেঙ্গু রোগীর শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে হবে, এসপিরিন জাতীয় ওষুধসহ কোনো ধরনের ব্যাথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না।

তবে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগীর বেশি করে ওরস্যালাইন, ডাব ও অতিরিক্ত পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৫৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। ঢাকায় ৫৫৭ জন, ঢাকার বাইরে ১১ জন। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ২ হাজার ৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি

হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫২৬ জন। এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।