১৮ তারিখ সকালে এমপিদের, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
সার্ক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে কূটনৈতিক নবদিগন্তের ইঙ্গিত
১৮ তারিখ জাতীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ, একই দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক আয়োজনকে ঘিরে দেশজুড়ে বাড়ছে প্রত্যাশা। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করানো হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালিত হতে পারে বলে তিনি ধারণা দিলেও বিষয়টি পরে নিশ্চিত করা হবে বলে জানান।
সংসদ সদস্যদের শপথের পর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এরপর বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনে এই আয়োজন হলেও এবার স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সংসদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ প্লাজা।
ড. আসিফ নজরুল জানান, জুলাই–আগস্টের ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থান, জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের মতো ঘটনাগুলোর স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে দক্ষিণ প্লাজার বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ ওসমান হাদির জানাজাসহ বিভিন্ন ঘটনার কারণে এ স্থানটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে, শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে বলে জানান আইন উপদেষ্টা। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা South Asian Association for Regional Cooperation (সার্ক)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত বহন করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন বলে জানা গেছে। বিদেশি কোনো প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
একই দিনে সাংবিধানিক শপথ, আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতি এবং প্রতীকী স্থানে আয়োজন–সব মিলিয়ে ১৮ তারিখের অনুষ্ঠান কেবল সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নবদিগন্তের সূচনার বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।



















