হরমুজ সংকটে তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে
- আপডেট সময় : ০১:৫০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান সংঘাত দীর্ঘ হলে বাজারের এই অস্থিরতা আরও কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস ধরে চলতে পারে।
ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত বৃহস্পতিবার ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ০৩.০০ পর্যন্ত ব্রেন্ট ফিউচারের দাম দাঁড়ায় ১০১.১৩ ডলার।
এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। ওয়াল স্ট্রিটে দরপতনের পর শুক্রবার টোকিও, সিউল ও হংকংসহ এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজার নিম্নমুখী হয়ে লেনদেন শুরু করে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই নৌপথ কার্যত বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করার পরই তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নৌ চলাচলের বিরুদ্ধে এই হুমকি তেহরানের একটি কৌশলগত হাতিয়ার, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ লিখেছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে দূরে রাখা আরও বেশি জরুরি।
ইরানের হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করছে, যাদের বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচটির বেশি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করছে না। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৮টি জাহাজ চলাচল করত। সংঘাত শুরুর পর এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
বাজার স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তাদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও এতে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। ব্যবসায়ীদের ধারণা, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।


















