স্থিতিশীলতার আভাস, ভেতরে ঝুঁকি রয়ে গেছে: গভর্নরের সতর্কবার্তা
- আপডেট সময় : ০৩:৫০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর হলেও কাঠামোগত দুর্বলতা ও আর্থিক খাতের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক খাতে যে অনিয়ম, সম্পদ অপসারণ ও শৃঙ্খলাহীনতা জমে উঠেছে, তা শোধরাতে সময় ও ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন।
গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। বেসরকারি খাতে আস্থা ফেরানো, নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক মধ্যস্থতাকে কার্যকর করা ছাড়া প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হবে না। তিনি নবগঠিত সরকারের প্রতি বিনিয়োগবান্ধব ও সাহসী কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও এখনো তা অর্জিত হয়নি। বাজারে চাহিদা-সরবরাহ ভারসাম্য, আমদানি ব্যয় ও মুদ্রানীতির প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে মূল্যস্তর নিয়ন্ত্রণে আরও সময় লাগবে। সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত নীতি সহায়তা প্রয়োজন।
তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে গভর্নর জানান, চলতি মাসেই রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে এবং বছর শেষে তা ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বহির্বাণিজ্য ও বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি আসবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যাংক খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা—এসবই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগই অর্থনীতিকে ভঙ্গুরতা থেকে স্থিতিশীলতার দিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে পারে।



















