সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের দুই ভাই আর মোসলেমের পরিবারের তদন্তে সময় লাগবে
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪ ৪০৪ বার পড়া হয়েছে
মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের দুই ভাইয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া এবং বঙ্গবন্ধুর খুনি রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের সন্তানদের পিতার নাম পরিবর্তনের অভিযোগে গঠিত তদন্তে কমিটির প্রতিবেদন পেতে আরও সময় লাগবে।
বুধবার (২৬ জুন) এই তথ্য জানান, নির্বাচন কমিশন সচিব শফিউল আজিম। এদিন কয়েকটি পৌরসভা ভোট শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সচিব।
সাবেক সেনাপ্রধানের ভাইদের অসত্য তথ্য দিয়ে এনআইডি সংগ্রহের বিষয়টি তদন্তে যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শফিউল আজিম জানান, তারা কীভাবে ভোটার হয়েছিলেন, কোন কোন ডকুমেন্ট এসেছে, কোথায় হয়েছে, কারও ইনভলমেন্ট ছিল কি না– এসব বিষয়ে আদ্যোপান্ত তদন্ত চলছে। তদন্ত কমিটি আরও সময় চেয়েছে। আরও সময় লাগতে পারে। আমরা নির্ভুলভাবে, বিস্তারিত, নিখুঁতভাবে তদন্তটা করতে চাই। কোনও ফাঁক-ফোঁকর যাতে না থাকে। তদন্ত কমিটির ওপর আস্থা আছে, তারা কাজ করছে। আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে।
কমিটির অন্তত আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে জানিয়ে সচিব বলেন, তদন্তে বিস্তারিত উঠে আসবে। তারা আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে বলেছে। ভোটার হওয়া থেকে এ পর্যন্ত সব ডকুমেন্ট জোগাড় করা, পরীক্ষা করা, যাচাই করা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে কোনও খুঁত যাতে না থাকে। (কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী) কেউ সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। তদন্তে প্রমাণিত হবে। বিন্দুমাত্র ইনভলমেন্ট থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আজিজ আহমেদের দুই ভাই হারিছ আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ (জোসেফ) নিজেদের নামের পাশাপাশি বাবা-মার নামও পরিবর্তন করেছেন। হারিছ আহমেদ তার নাম পাল্টে হয়েছেন মোহাম্মদ হাসান। আর তোফায়েল আহমেদ জোসেফ নাম পাল্টে পরিচিতি নিয়েছেন তানভীর আহমেদ তানজীল নামে। এ বিষয় সম্প্রতি আলোচনায় আসার পর মে মাসে তদন্তে নামে ইসি।
রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের সন্তানদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে এনআইডি করার বিষয়টিও তদন্ত চলছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পলাতক আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের সন্তানরা কীভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) তাদের বাবার নাম পাল্টেছেন, সে বিষয়ে মে মাসে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইসি সচিব জানান, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বঙ্গবন্ধুর এ খুনি বিভিন্ন নামে আত্মগোপনে ছিলেন, বিভিন্ন নাম ধারণ করেছেন। আমরা চাচ্ছি কোন কোন নামে কোথায় কোথায় ছিলেন, তার আত্মীয়-স্বজনরা কোথায় কোথায় ব্যবহার করেছেন, সমস্ত তথ্য নিয়ে আসতে। এর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এটিও একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত হচ্ছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা তদন্ত করছি।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইসিকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মোসলেম উদ্দিনের ছয় ছেলে-মেয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম পরিবর্তন করে মো. রফিকুল ইসলাম খান বানিয়ে নিয়েছেন। ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোসলেম উদ্দিনের তিন ছেলে-মেয়ে পাসপোর্ট এবং এক ছেলে ড্রাইভিং লাইসেন্সেও তাদের বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম খান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
এ অবস্থায় মোসলেমের সন্তানদের এনআইডি, পাসপোর্ট ও অন্যান্য ডেটাবেজে তাদের পিতার নাম বদলে নেওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।




















