শ্বশুরের বিচ্ছিন্ন মাথা বহন করে পুত্রবধূ আনার কলি
- আপডেট সময় : ১০:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩ ২৫০ বার পড়া হয়েছে
স্ত্রী-সন্তান মিলে কেন হত্যা করলো!
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
সমুদ্রের তীর রক্ষায় কঠিন পাথরের বিশাল খণ্ডের ব্যাষ্টনী। তাতে সদুদ্রের ঢৈউ আছড়ে পড়ে চারিদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে। পাথর খন্ডের ফাঁকে বেশ একটা জায়গা। সেখানেই শশুড়ের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা রাতের আঁধারে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
নিহত হাসান আলীর বিচ্ছিন্ন মাথা খুঁজতে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যদের সঙ্গে পুত্রবধূ আনার কলি মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় যায়। কিন্তু বিচ্ছিন্ন মাথার সন্দ্যান মেলেনি।
দুই সন্তান, স্ত্রী এবং পুত্রবধূ মিলে কেন হাসান আলীতে এই নৃশংস হত্যা করল?
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব। ২৬ বছর পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন থাকার পর সম্প্রতি হাসান আলী ফিরে আসেন। তিনি ছিলেন দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী সড়কের একটি বাড়িতে হাসান আলীকে (৬১) খুন করা হয়। বাড়িটিতে আনার কলির স্বামী ও হাসান আলীর ছোট ছেলে শফিকুর রহমান (২৯) ভাড়া নিয়েছিলেন। সেই বাড়িতেই হাসান আলী দুই ছেলের হাতে খুন হন। সহযোগী হিসেবে ছিলেন আনার কলি।
হত্যার আলামত গায়েব করতে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানেরা ১০ টুকরো করা হয় হাসান আলীর দেহ। পরে নগরের তিনটি স্থানে ফেলা হয় দেহাংশ। হাসান আলীর মাথাটি নিজের ব্যাগে বহন করে নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ফেলে দিয়ে আসেন পুত্রবধূ আনার কলি!

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে স্বামী শফিকুর রহমান পলাতক থাকলেও গত শুক্রবার আনার কলিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে এ কথা বলেন আনার কলি (২০)।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে আকমল আলী রোডে ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ হাসান আলীর স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম (৫০) ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। তাদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে হাসান আলীর লাশের দুটি অংশ উদ্ধার করা হলেও মাথাটা পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাড়িতে ফিরে আসার পর তার বাবা হাসান আলী ভিটেবাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চালান। এতে ক্ষুব্ধ হন তারা। এমন ক্ষোভ থেকেই বাবাকে হত্যার সিদ্ধান্ত। হত্যার সময় মোস্তাফিজ নিজে ও তার ছোট ভাই শফিকুর রহমান বাবার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। বাসায় তখন মা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ছিলেন।
সেদিন বাবার লাশটি বস্তায় ভরে বাসার খাটের নিচে রেখে দেন তারা। পরে টুকরা করে বস্তা ও লাগেজে ভরে দূরে ফেলে দেন। লাগেজটি ফেলেন পতেঙ্গা ১২ নম্বর ঘাটে আর বস্তাটি বাড়ির পাশে একটি ডোবায়। তার ছোট ছেলে শফিকুর ও স্ত্রী আনার কলি মাথাটি পতেঙ্গা সৈকতে ফেলে দিয়ে আসে।




















