ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘ-হাতি শিকারে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা নির্বাচনী মাঠে এখনো সমান সুযোগ, সম্প্রীতির বাংলাদেশই লক্ষ্য: প্রেস সচিব ইসলামী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে টেকসই উন্নয়ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সূচনা মাদুরোর নজির টেনে কাদিরভের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আহ্বান জেলেনস্কির এবার পাতানো নির্বাচন হবে না: কড়া বার্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনের মোদিকে শায়েস্তা করতে ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ? ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ৭ লাখ ২৮ হাজার প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে ইসি এলপিজি ঘিরে নীরব অর্থনৈতিক সন্ত্রাসে জিম্মি ভোক্তা, কঠোর পদক্ষেপের দাবি ইসমত শিল্পীর কবিতা ‘অশ্রুবাষ্প’ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড নীতিতে বাংলাদেশ: সর্বোচ্চ গুণতে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত নওগাঁ: কনকনে ঠান্ডায় থমকে গেছে জনজীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত নওগাঁ: কনকনে ঠান্ডায় থমকে গেছে জনজীবন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নওগাঁ জেলার জনজীবন। বুধবার সকাল ৬টায় জেলার বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। টানা কয়েকদিন ধরে হিমেল হাওয়া আর শীতল আবহাওয়ার দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে নগর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ঘন কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকলেও উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাস শীতের তীব্রতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোর থেকেই কনকনে ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না অনেক মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। শীতে নানা রোগবালাই যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

কৃষিখাতেও পড়েছে শৈত্যপ্রবাহের নেতিবাচক প্রভাব। নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক সামিউল ইসলাম বলেন, এত ঠান্ডায় জমিতে নামতেই ভয় লাগে। তবু ধান রোপণ বন্ধ রাখা যায় না। ঠান্ডার কারণে ধান রোপণ ও অন্যান্য কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

শহরের খেটে খাওয়া মানুষদের কষ্ট যেন আরও বেশি। তাজের মোড় এলাকার অটোরিকশা চালক সালাম ও বক্কর জানান, ঠান্ডার কারণে যাত্রী কমে গেছে। এই শীতে গাড়ি নিয়ে বের হতে মন চায় না, কিন্তু পেটের দায়ে বের হতে হয়, বলেন তারা। দিনমজুর, ভ্যানচালক ও রিকশাচালকরাও কাজের অভাবে বিপাকে পড়েছেন।

ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে করুণ। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটাচ্ছেন। হাপানিয়া এলাকার বাসিন্দা স্বপন আহমেদ জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই শীতের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ।

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কনকনে এই শীতে মানবিক সহানুভূতি আর সামাজিক উদ্যোগই পারে নওগাঁর অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত নওগাঁ: কনকনে ঠান্ডায় থমকে গেছে জনজীবন

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নওগাঁ জেলার জনজীবন। বুধবার সকাল ৬টায় জেলার বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। টানা কয়েকদিন ধরে হিমেল হাওয়া আর শীতল আবহাওয়ার দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে নগর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ঘন কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকলেও উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাস শীতের তীব্রতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোর থেকেই কনকনে ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না অনেক মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। শীতে নানা রোগবালাই যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

কৃষিখাতেও পড়েছে শৈত্যপ্রবাহের নেতিবাচক প্রভাব। নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক সামিউল ইসলাম বলেন, এত ঠান্ডায় জমিতে নামতেই ভয় লাগে। তবু ধান রোপণ বন্ধ রাখা যায় না। ঠান্ডার কারণে ধান রোপণ ও অন্যান্য কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

শহরের খেটে খাওয়া মানুষদের কষ্ট যেন আরও বেশি। তাজের মোড় এলাকার অটোরিকশা চালক সালাম ও বক্কর জানান, ঠান্ডার কারণে যাত্রী কমে গেছে। এই শীতে গাড়ি নিয়ে বের হতে মন চায় না, কিন্তু পেটের দায়ে বের হতে হয়, বলেন তারা। দিনমজুর, ভ্যানচালক ও রিকশাচালকরাও কাজের অভাবে বিপাকে পড়েছেন।

ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে করুণ। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটাচ্ছেন। হাপানিয়া এলাকার বাসিন্দা স্বপন আহমেদ জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই শীতের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ।

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কনকনে এই শীতে মানবিক সহানুভূতি আর সামাজিক উদ্যোগই পারে নওগাঁর অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে।