বিদ্যুৎ সাশ্রয়: রোববার থেকে ৯–৪ অফিস, ৬টার মধ্যে বন্ধ দোকানপাট
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষেছবি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ফেসবুক পেজ
সংকট মোকাবেলায় শৃঙ্খলা ও সাশ্রয়, এই দুই পথেই এগোতে চায় সরকার
দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রোববার থেকে সরকারি অফিসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। একই সঙ্গে দোকানপাট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, যেখানে আগে সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।
ব্যাংকিং লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, ব্যাংক বন্ধ হবে বিকেল ৪টার মধ্যে।
এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর হচ্ছে আজ শুক্রবার থেকেই।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে রাত পৌনে ৯টায় বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠক শেষে রাত ১২টার পর ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি নতুন সময়সূচি ও নির্দেশনাগুলো তুলে ধরেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নতুন সময়
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। আর সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলতে হবে। নজরদারির মাধ্যমে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে আসছে আলাদা নির্দেশনা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার থেকে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সব শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ধরনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাস্তবতা বিবেচনায় আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে পাঠদান ব্যাহত না হয়।
তিন মাসে কঠোর ব্যয়সংকোচন
আগামী তিন মাস সরকারি ব্যয়ে বড় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- নতুন যানবাহন, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার কেনা বন্ধ
- অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ৫০% কমানো
- বৈদেশিক প্রশিক্ষণ আপাতত স্থগিত
- সভা-সেমিনারের ব্যয় অর্ধেকে নামানো
- জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ব্যয় ৩০% কমানো
- অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয় কমানো
বিয়ে-উৎসবে আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিয়ে বা যে কোনো উৎসবে আলোকসজ্জা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার বলছে, ছোট ছোট সাশ্রয়ই বড় সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হবে।
বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্রায় ৮০ শতাংশ তেল ওই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অবৈধ মজুদ ঠেকাতে অভিযান জোরদার করেছে সরকার।
বিকল্প উৎসে জ্বালানি খোঁজ
সংকট কাটাতে সরকার নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে সরবরাহ শুরু হয়েছে। কাজাখস্তান থেকেও জ্বালানি আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্কুল পরিবহনে ইলেকট্রিক বাসে উৎসাহ
সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বাস ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। নতুন ইলেকট্রিক বাস শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে—তবে পুরনো বাস নয়।
কতদিন চলবে এই ব্যবস্থা?
এই পদক্ষেপ কতদিন কার্যকর থাকবে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
সরকারের বার্তা
সরকার বলছে, জ্বালানি সংকটের চাপ যতটা সম্ভব সাধারণ মানুষের ওপর কমিয়ে এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।













