রাষ্ট্রপতির তিন অপরাধে ভাষণ বর্জন: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৮:১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করেছে বিরোধী দল। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন–এর ভাষণ বর্জনের কারণ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রপতির তিনটি অপরাধের কারণেই তার ভাষণ বর্জন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে দাঁড়ান। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে তারা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
ওয়াকআউটের পর সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই সংসদ জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, এই সংসদে ফ্যাসিস্টের কোনো দোসর বা খুনের সহযোগী যেন বক্তব্য রাখতে না পারে।
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, তিনি সব খুনের সহযোগী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরে তিনি তা অস্বীকার করেন। এর মাধ্যমে তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।
তৃতীয় অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজ হাতে একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল নির্বাচনে দুটি ভোট হবে, একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি সংস্কার সংশোধন পরিষদের সদস্য নির্বাচনের জন্য। একই দিনে উভয় নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন বলেও উল্লেখ ছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সেই শপথ নিলেও সরকারি দল তা নেয়নি। রাষ্ট্রপতির প্রথম দায়িত্ব ছিল অধ্যাদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা। কিন্তু তিনি তা করেননি। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও রাষ্ট্রপতি সেই জনমতকে উপেক্ষা করেছেন। এতে তিনি জনগণকে অপমান করেছেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদকে কলুষিত করতে পারে, এমন কোনো ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর যেন এই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পায়।
প্রথা অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে সরকারের নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তবে এদিন বিরোধী দলের বর্জন ও ওয়াকআউটের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ পর্ব শুরু হয়।

















