পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্যের বিস্তার রোধে সিন্ডিকেট নির্মূলসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে একাধিক নাগরিক সংগঠন। তারা বলছে, শুধু অভিযানে নয়—স্থায়ী বাজার মনিটরিং, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কার্যকর কাঠামো এবং জনসচেতনতা জরুরি।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বিসেফ ফাউন্ডেশন ও শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিসউক)। ‘পবিত্র রমজানে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, নিরাপদতা ও ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিক দাবি’ শীর্ষক এ আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার।
সংগঠনগুলোর দাবি, রোজায় ব্যবহৃত পণ্যের দাম পরিকল্পিতভাবে বাড়াতে সক্রিয় থাকে বাজার সিন্ডিকেট। তাই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, প্রত্যেক বাজারে ‘নিরাপদ কৃষকের বাজার’ চালু, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার করতে হবে।
এছাড়া ফল পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার, কৃত্রিম রং মেশানো ইফতার সামগ্রী বিক্রি বন্ধ, খাদ্যপণ্যে পুষ্টিমান দৃশ্যমানভাবে উল্লেখ, ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি কীটনাশক নিষিদ্ধ এবং একক জানালা ভিত্তিক ডিজিটাল খাদ্য ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং পোর্টাল চালুর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দৈনিক বিপুল খাদ্যবাজারের বড় অংশ এখন অনিরাপদ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। ইফতার প্রস্তুত ও বিক্রিতে স্বাস্থ্যবিধি বাধ্যতামূলক করা এবং বছরব্যাপী গণমাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হয়।
তাদের মতে, এখনই সমন্বিত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকিতে পড়বে।



















