মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে মানব ঢল: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ সূর্যসন্তানদের
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন। সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঘাতক ও তাদের দোসরদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা এখনও সক্রিয় তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করার দাবি জানান।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমান উল্লাহ আমান, আমিনুল হক, সানজিদা তুলি ও শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ অন্যান্য নেতারা। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছে, ঠিক সেই সময়ে দেশের শত্রুরা হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে।
সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নেতাকর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই তারা নতুন বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যেতে চান। এছাড়া জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী সকাল ১১টায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি স্মরণ করান, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন, যারা বিজয়ের প্রাক্কালে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ, বাসদ (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য ও বাংলাদেশ বিপ্লবী পার্টি সহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এছাড়া, জাতীয়তাবাদী যুবদল, মহিলা দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, ছাত্রদল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, জাতীয় ছাত্র শক্তি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বিভিন্ন সংগঠনও ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
একই সময়ে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানেও সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। মানুষের এই প্রগাঢ় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে চিরস্মরণীয় করে রাখে।




















