ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বড় সাফল্য বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ ১১ চীনা প্রতিষ্ঠানের জামালপুর জিরো লাইনে ভারতীয়দের মাটি কাটার চেষ্টা, বাংলাদেশিদের বাধা মাদক পাচারে বদির জায়গা কে নিয়েছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গয়েশ্বর রায়ের প্রশ্ন ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা হাজারো স্বপ্ন, উদ্ধার ১,৪৩০ মরদেহ সফল দেশের স্বীকৃতি ফল উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ, বিশ্বে গড়ছে দৃষ্টান্ত দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুমের শিকার পরিবারের ভাতা বরাদ্দ এই বাজেটেই প্রতিশ্রুতি মির্জা ফখরুলের হামে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, বাড়ছে উদ্বেগ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের: মাহদী আমিন

চাঁদের পথে নতুন দিগন্ত: অ্যাপোলোর পর আর্টেমিসে ইতিহাস গড়ার অভিযাত্রা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ২১২ বার পড়া হয়েছে

১ এপ্রিলে ‘আর্টেমিস ২’ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে নাসা, যা প্রায় ১০ দিনের একটি মিশন। ছবি: রয়টার্স

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অ্যাপোলো যুগের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর মানবজাতি আবারও চাঁদের পথে, তবে এবার লক্ষ্য শুধু পতাকা গাড়া নয়, বরং স্থায়ী উপস্থিতি গড়া। আর্টেমিস প্রোগ্রাম সেই নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি তৈরি করছে।

চাঁদে ফেরার বিজ্ঞান: কেন আর্টেমিস এত গুরুত্বপূর্ণ?

১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ চন্দ্র অবতরণ মানবজাতিকে প্রথমবার চাঁদে পৌঁছে দেয়। তবে সেই মিশনগুলো ছিল স্বল্পমেয়াদী। আর্টেমিসের লক্ষ্য একেবারেই ভিন্ন—
দীর্ঘমেয়াদে চাঁদে মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা
মহাকাশে টেকসই প্রযুক্তি পরীক্ষা করা
ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া

চাঁদকে এখানে একটি টেস্টিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আর্টেমিস মিশনের বৈজ্ঞানিক কাঠামো

১. শক্তিশালী রকেট: মহাকাশ উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা

এটি এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটগুলোর একটি। এটি মহাকাশযান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে গভীর মহাকাশে নিয়ে যেতে সক্ষম।

২. মানববাহী ক্যাপসুল: ওরিয়ন মহাকাশযান

এটি নভোচারীদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান। এতে রয়েছে—

  • লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম
  • উন্নত ন্যাভিগেশন
  • তাপ প্রতিরোধক হিট শিল্ড
৩. চাঁদে নামার যান: স্টারশিপ এইচএলএস

এই ল্যান্ডারটি চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ ও পুনরায় উড্ডয়নের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির একটি বড় উদাহরণ।

বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য ও গবেষণা :  চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অনুসন্ধান

আর্টেমিস মিশনের একটি বড় লক্ষ্য চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চল, যেখানে বরফ আকারে পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পানি থেকে তৈরি করা যেতে পারে

  • পানীয় জল
  • অক্সিজেন
  • এমনকি রকেট জ্বালানি (হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন)
২০২২ সালের নভেম্বরে নাসা ‘আর্টেমিস ১’ উৎক্ষেপণ করেছিল, যেখানে একটি চালকবিহীন ওরিয়ন মহাকাশযানকে ২৫ দিনের মিশনে চাঁদের আশপাশে ঘুরিয়ে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়। ছবি: রয়টার্স
২০২২ সালের নভেম্বরে নাসাআর্টেমিস উৎক্ষেপণ করেছিল, যেখানে একটি চালকবিহীন ওরিয়ন মহাকাশযানকে ২৫ দিনের মিশনে চাঁদের আশপাশে ঘুরিয়ে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়। ছবি: রয়টার্সমহাকাশে মানবদেহের আচরণ

দীর্ঘ সময় কম মাধ্যাকর্ষণে থাকলে মানুষের—

  • হাড় ক্ষয় হয়
  • পেশি দুর্বল হয়
  • রেডিয়েশনের প্রভাব বাড়ে

আর্টেমিস এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা দেবে।

গভীর মহাকাশ প্রযুক্তি

এ মিশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে

  • দীর্ঘমেয়াদী জীবনধারণ প্রযুক্তি
  • স্বয়ংক্রিয় ন্যাভিগেশন
  • দূরবর্তী যোগাযোগ ব্যবস্থা

ভূ-রাজনীতি ও মহাকাশ প্রতিযোগিতা

মহাকাশ এখন শুধু বিজ্ঞান নয়, কৌশলগত শক্তির অংশ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশই চাঁদে আধিপত্য বিস্তারের দিকে এগোচ্ছে।

চীন তাদের নিজস্ব চন্দ্রঘাঁটি পরিকল্পনা করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র আর্টেমিসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।

ফলে এটি একটি মহাকাশ দৌড় ২.০
যেখানে প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও কূটনীতি একসঙ্গে কাজ করছে।

 ভবিষ্যৎ: চাঁদ থেকে মঙ্গল

আর্টেমিস শুধু চাঁদে থামবে না। এটি ভবিষ্যতে
মঙ্গল গ্রহ -এ মানুষের যাত্রার প্রস্তুতি
মহাকাশে স্বনির্ভর বসতি গঠন
পৃথিবীর বাইরে মানব সভ্যতার বিস্তার

উপসংহার

অ্যাপোলো ছিল সূচনা, আর্টেমিস হচ্ছে পরবর্তী অধ্যায়। এটি শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং মানব সভ্যতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের এক সাহসী পদক্ষেপ।

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়া সম্ভব হলে, সেটিই হবে মানুষের প্রথম অন্য গ্রহে বসবাস, যা একদিন আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে বহু-গ্রহের প্রাণীতে পরিণত করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চাঁদের পথে নতুন দিগন্ত: অ্যাপোলোর পর আর্টেমিসে ইতিহাস গড়ার অভিযাত্রা

আপডেট সময় : ১২:০০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

অ্যাপোলো যুগের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর মানবজাতি আবারও চাঁদের পথে, তবে এবার লক্ষ্য শুধু পতাকা গাড়া নয়, বরং স্থায়ী উপস্থিতি গড়া। আর্টেমিস প্রোগ্রাম সেই নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি তৈরি করছে।

চাঁদে ফেরার বিজ্ঞান: কেন আর্টেমিস এত গুরুত্বপূর্ণ?

১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ চন্দ্র অবতরণ মানবজাতিকে প্রথমবার চাঁদে পৌঁছে দেয়। তবে সেই মিশনগুলো ছিল স্বল্পমেয়াদী। আর্টেমিসের লক্ষ্য একেবারেই ভিন্ন—
দীর্ঘমেয়াদে চাঁদে মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা
মহাকাশে টেকসই প্রযুক্তি পরীক্ষা করা
ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া

চাঁদকে এখানে একটি টেস্টিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আর্টেমিস মিশনের বৈজ্ঞানিক কাঠামো

১. শক্তিশালী রকেট: মহাকাশ উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা

এটি এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটগুলোর একটি। এটি মহাকাশযান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে গভীর মহাকাশে নিয়ে যেতে সক্ষম।

২. মানববাহী ক্যাপসুল: ওরিয়ন মহাকাশযান

এটি নভোচারীদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান। এতে রয়েছে—

  • লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম
  • উন্নত ন্যাভিগেশন
  • তাপ প্রতিরোধক হিট শিল্ড
৩. চাঁদে নামার যান: স্টারশিপ এইচএলএস

এই ল্যান্ডারটি চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ ও পুনরায় উড্ডয়নের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির একটি বড় উদাহরণ।

বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য ও গবেষণা :  চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অনুসন্ধান

আর্টেমিস মিশনের একটি বড় লক্ষ্য চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চল, যেখানে বরফ আকারে পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পানি থেকে তৈরি করা যেতে পারে

  • পানীয় জল
  • অক্সিজেন
  • এমনকি রকেট জ্বালানি (হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন)
২০২২ সালের নভেম্বরে নাসা ‘আর্টেমিস ১’ উৎক্ষেপণ করেছিল, যেখানে একটি চালকবিহীন ওরিয়ন মহাকাশযানকে ২৫ দিনের মিশনে চাঁদের আশপাশে ঘুরিয়ে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়। ছবি: রয়টার্স
২০২২ সালের নভেম্বরে নাসাআর্টেমিস উৎক্ষেপণ করেছিল, যেখানে একটি চালকবিহীন ওরিয়ন মহাকাশযানকে ২৫ দিনের মিশনে চাঁদের আশপাশে ঘুরিয়ে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়। ছবি: রয়টার্সমহাকাশে মানবদেহের আচরণ

দীর্ঘ সময় কম মাধ্যাকর্ষণে থাকলে মানুষের—

  • হাড় ক্ষয় হয়
  • পেশি দুর্বল হয়
  • রেডিয়েশনের প্রভাব বাড়ে

আর্টেমিস এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা দেবে।

গভীর মহাকাশ প্রযুক্তি

এ মিশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে

  • দীর্ঘমেয়াদী জীবনধারণ প্রযুক্তি
  • স্বয়ংক্রিয় ন্যাভিগেশন
  • দূরবর্তী যোগাযোগ ব্যবস্থা

ভূ-রাজনীতি ও মহাকাশ প্রতিযোগিতা

মহাকাশ এখন শুধু বিজ্ঞান নয়, কৌশলগত শক্তির অংশ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশই চাঁদে আধিপত্য বিস্তারের দিকে এগোচ্ছে।

চীন তাদের নিজস্ব চন্দ্রঘাঁটি পরিকল্পনা করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র আর্টেমিসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।

ফলে এটি একটি মহাকাশ দৌড় ২.০
যেখানে প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও কূটনীতি একসঙ্গে কাজ করছে।

 ভবিষ্যৎ: চাঁদ থেকে মঙ্গল

আর্টেমিস শুধু চাঁদে থামবে না। এটি ভবিষ্যতে
মঙ্গল গ্রহ -এ মানুষের যাত্রার প্রস্তুতি
মহাকাশে স্বনির্ভর বসতি গঠন
পৃথিবীর বাইরে মানব সভ্যতার বিস্তার

উপসংহার

অ্যাপোলো ছিল সূচনা, আর্টেমিস হচ্ছে পরবর্তী অধ্যায়। এটি শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং মানব সভ্যতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের এক সাহসী পদক্ষেপ।

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়া সম্ভব হলে, সেটিই হবে মানুষের প্রথম অন্য গ্রহে বসবাস, যা একদিন আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে বহু-গ্রহের প্রাণীতে পরিণত করতে পারে।