ঢাকা ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভোলা সেতু: খুলে যাবে দক্ষিণ জনপথের অর্থনীতির নতুন দুয়ার আমদানি বৃদ্ধি ও পণ্য রপ্তানি বাণিজ্যঘাটতি বেড়ে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসবে না ইরান চারুকলায় বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি: দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ পাহাড়ে বৈসুর প্রস্তুতি: গরাইয়া নাচে মাতোয়ারা ত্রিপুরাপাড়া ইরানের আঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো কার্যত অকার্যকর শর্ত মেনে : হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১৫ জাহাজ যেতে পারবে: ইরান জ্বালানিতে স্বস্তি: ১৫ এপ্রিল এলএনজি-এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে আরও ৫ জাহাজ জুলাইযোদ্ধা : আবু সাঈদ ভেবেছিলেন সামনে মানুষ, কিন্তু তারা অমানুষ হয়ে গিয়েছিল জাতীয় কবির জন্মোৎসব উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট

ভোলা সেতু: খুলে যাবে দক্ষিণ জনপথের অর্থনীতির নতুন দুয়ার

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ভোলা সেতু: খুলে যাবে দক্ষিণ জনপথের অর্থনীতির নতুন দুয়ার

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলা বাংলাদেশের বৃহৎ ও একমাত্র দ্বীপ জেলা। এর  ইতিহাস  প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। ১২৩৫ সালে এই দ্বীপের সৃষ্টি এবং ১৩০০ সালের দিকে এখানে চাষাবাদ শুরু হয়। পূর্বে এর নাম ছিল শাহবাজপুর। এই অঞ্চলে ১৬শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল।

১৮৪৫ সালে নোয়াখালী জেলার অধীনে মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরু করে, ১৮৬৯ সালে এটি বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৪ সালে ভোলা পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপান্তরিত হয়।

৭০-এর ঝড়ে ভোলায় হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। ক্ষতির পরিমাণ প্রায়  ৮৬.৪ মিলিয়ন ডলার। তৎকালীন প্রতি ডলার ১০ টাকা হারে  ৮ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা।

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিশিষ্ট বিপ্লবী এবং সশস্ত্র প্রতিরোধের  এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব নলিনী দাস এই ভোলারই সন্তান।

বৃহত্তর এই দ্বীপ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা নৌপথ।

সেই ভোলাকে  মূল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে জুড়তে তেঁতুলিয়া নদীর ওপর  সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিল তারেক রহমান সরকার। সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষে ঢাকা থেকে বড়জোড় পাঁচ ঘন্টায় ভোলায় পৌছানো  যাবে।

জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রকল্প ভোলা–বরিশাল সেতু বাস্তবায়িত হলে খুলে যাবে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার। প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি তেঁতুলিয়া নদীর ওপর নির্মিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভোলা জেলাকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করবে।

সরকারের সেতুটি নির্মাণের ঘোষণায় সম্ভবনাময় এই জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চারের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানের ভোলার নানা কৃষিপণ্য ও মাছ নৌপথে এবং লক্ষীপুর হয়ে সড়ক পথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবাহিত হচ্ছে।

সেতু নির্মাণের ঘোষণায় সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন। সংগঠনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফরাজি এক বার্তায় বলেন, ভোলা জেলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, মৎস্যসম্পদ ও কৃষিপণ্যের বিপুল সম্ভাবনা।

ভোলা সেতু: খুলে যাবে দক্ষিণ জনপথের অর্থনীতির নতুন দুয়ার
পর্যটনের হাত ছানি

কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয়নি। সেতু নির্মিত হলে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবার পাশাপাশি  গ্যাস সরবরাহ সহজ হবে,  কৃষি ও মৎস্যপণ্যের দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

তিনি বলেন,  এই সেতু শুধু ভোলা নয়, বরিশালসহ গোটা  দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিকে গতিশীল করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এছাড়া  জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সময় ও ব্যয় কমে আসবে।

পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের ফলে জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। সব মিলিয়ে, ভোলা সেতু বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ জনপদের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রতীক হয়ে উঠবে।

দ্বীপ জেলা হওয়ায় বর্তমানে ভোলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ মূলত নৌপথনির্ভর। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি ও পশ্চাৎপদতা তৈরি হয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে এই বিচ্ছিন্নতা দূর হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটিই হবে দেশের দীর্ঘতম সেতু। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবাঁদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ভোলা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভোলা সেতু: খুলে যাবে দক্ষিণ জনপথের অর্থনীতির নতুন দুয়ার

আপডেট সময় : ০৮:১৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ভোলা বাংলাদেশের বৃহৎ ও একমাত্র দ্বীপ জেলা। এর  ইতিহাস  প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। ১২৩৫ সালে এই দ্বীপের সৃষ্টি এবং ১৩০০ সালের দিকে এখানে চাষাবাদ শুরু হয়। পূর্বে এর নাম ছিল শাহবাজপুর। এই অঞ্চলে ১৬শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল।

১৮৪৫ সালে নোয়াখালী জেলার অধীনে মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরু করে, ১৮৬৯ সালে এটি বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৪ সালে ভোলা পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপান্তরিত হয়।

৭০-এর ঝড়ে ভোলায় হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। ক্ষতির পরিমাণ প্রায়  ৮৬.৪ মিলিয়ন ডলার। তৎকালীন প্রতি ডলার ১০ টাকা হারে  ৮ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা।

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিশিষ্ট বিপ্লবী এবং সশস্ত্র প্রতিরোধের  এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব নলিনী দাস এই ভোলারই সন্তান।

বৃহত্তর এই দ্বীপ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা নৌপথ।

সেই ভোলাকে  মূল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে জুড়তে তেঁতুলিয়া নদীর ওপর  সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিল তারেক রহমান সরকার। সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষে ঢাকা থেকে বড়জোড় পাঁচ ঘন্টায় ভোলায় পৌছানো  যাবে।

জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রকল্প ভোলা–বরিশাল সেতু বাস্তবায়িত হলে খুলে যাবে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার। প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি তেঁতুলিয়া নদীর ওপর নির্মিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভোলা জেলাকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করবে।

সরকারের সেতুটি নির্মাণের ঘোষণায় সম্ভবনাময় এই জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চারের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানের ভোলার নানা কৃষিপণ্য ও মাছ নৌপথে এবং লক্ষীপুর হয়ে সড়ক পথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবাহিত হচ্ছে।

সেতু নির্মাণের ঘোষণায় সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন। সংগঠনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফরাজি এক বার্তায় বলেন, ভোলা জেলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, মৎস্যসম্পদ ও কৃষিপণ্যের বিপুল সম্ভাবনা।

ভোলা সেতু: খুলে যাবে দক্ষিণ জনপথের অর্থনীতির নতুন দুয়ার
পর্যটনের হাত ছানি

কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয়নি। সেতু নির্মিত হলে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবার পাশাপাশি  গ্যাস সরবরাহ সহজ হবে,  কৃষি ও মৎস্যপণ্যের দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

তিনি বলেন,  এই সেতু শুধু ভোলা নয়, বরিশালসহ গোটা  দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিকে গতিশীল করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এছাড়া  জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সময় ও ব্যয় কমে আসবে।

পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের ফলে জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। সব মিলিয়ে, ভোলা সেতু বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ জনপদের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রতীক হয়ে উঠবে।

দ্বীপ জেলা হওয়ায় বর্তমানে ভোলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ মূলত নৌপথনির্ভর। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি ও পশ্চাৎপদতা তৈরি হয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে এই বিচ্ছিন্নতা দূর হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটিই হবে দেশের দীর্ঘতম সেতু। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবাঁদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ভোলা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি।