ভাষা ও আবেগের মাসে বইয়ের উৎসব, ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু অমর একুশে গ্রন্থমেলা
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
ভাষা শহীদদের রক্তে রঞ্জিত ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও আবেগের মাস। সেই মাসেই বাঙালির সবচেয়ে বড় সাহিত্য উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলা। তবে এবছর ব্যতিক্রমী বাস্তবতায় ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন নয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২৬।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, অনিবার্য বাস্তবতার কারণে এ বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালনা কমিটির একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাষা শহীদদের স্মরণে একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের সমন্বয়ে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে। এই আয়োজন এখন শুধু একটি বইমেলা নয়, বরং জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবছর স্টল ভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যদিও সার্বিকভাবে মেলা আয়োজনের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতির বড় অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বরাদ্দ, স্টল নির্মাণ কার্যক্রম, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্ভাব্য আলোচক ও প্রবন্ধকারদের কাছেও আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
এবার বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য গত বছরের ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন ৫৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। স্থান সংকুলানের সীমাবদ্ধতার কারণে গত বছরের সব প্রতিষ্ঠানসহ নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বইমেলার কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর কিছু প্রকাশক ঈদের পর মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও তা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, ঈদের পর এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, ধুলোবালি ও কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা থাকে, যা মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজনের জন্য অনুকূল নয়।
তিনি আরও জানান, সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে। রমজান মাস থাকায় নামাজ ও ইফতারের বিশেষ ব্যবস্থাও থাকবে। প্রতিবারের মতো শিশুদের জন্য থাকবে আলাদা কর্নার। শুক্রবার ও শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে সকাল ৯টা থেকে শিশু প্রহর চালু থাকবে।
ভাষার মাস, আবেগের মাস ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এবছর কিছুটা দেরিতে হলেও ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইয়ের ঘ্রাণে ভরে উঠবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ, যেখানে ভাষা, ইতিহাস আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আবারও মিলবে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকেরা।



















