ভারতের হাই কমিশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাজরা দিবস উদযান
- আপডেট সময় : ০৩:১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ মে ২০২৩ ১৭৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক
বাজরা শতাব্দী ধরে আমাদের খাদ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাস্থ্য সুবিধার আধিক্য ছাড়াও, কম জল এবং ইনপুট প্রয়োজনের সাথে পরিবেশের জন্য বাজরাও ভাল। সচেতনতা তৈরি এবং সারা বিশ্বে বাজরা উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত সরকারের নির্দেশে জাতিসংঘ ২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক বাজরা বছর হিসাবে ঘোষণা করেছে।
২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক মিল্ট বর্ষ উদযাপনের অংশ হিসাবে ঢাকার ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে খাদ্য নিরাপত্তা এবং বাজরার গুরুত্ব বিষয়ক একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী মহামান্য সাধন চন্দ্র মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি জনাব রবার্ট ডি. সিম্পসন। অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. মির্জা হাসানুজ্জামান।
হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা তার বক্তৃতায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুষ্টিকর খাদ্য জনপ্রিয়করণ, টেকসই কৃষির প্রচার এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বাজরার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন।
এসময় তিনি উল্লেখ করেন যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্ঞানের আদান-প্রদান, সর্বোত্তম অনুশীলনের আদান-প্রদান এবং বাজরা সম্পর্কিত গবেষণা ও উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগিতা করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানটি আয়োজনে ভারতের হাইকমিশনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের কৃষি খাতে রূপান্তর এবং বাজরা উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাও তুলে ধরেন।

কৃষি সহযোগিতা ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ই আমাদের দুই দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল এবং আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য বাজরার শক্তিকে কাজে লাগানোর পথে নেতৃত্ব দিতে পারে।
উল্লেখ্য, বাজরা গ্লুটেনমুক্ত, ফাইবার শস্যসমৃদ্ধ, পুষ্টিকর এবং সহজে হজমযোগ্য সুপারফুড হিসেবেও বিবেচিত। এটি আকার ও আকৃতির দিক থেকে বার্লির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে এতে ফাইবার আছে বার্লির চেয়েও বেশি।
আমাদের দেশে বাজরা প্রধানত জুন-জুলাই মাসে চাষ করা হয়। বৃষ্টি না হলে বাজরা চাষে সেচের প্রয়োজন হয়। তবে জলাবদ্ধ জমিতে এরা বাঁচতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্ক গাছ কেটে রোদে শুকিয়ে বাজরা সংগ্রহ করা হয়।
বাজরার রুটি আটার রুটির চেয়ে বেশি পুষ্টিকর ও উপকারী। বাজরায় আয়রন ও এনার্জির পরিমাণ আটার তুলনায় বেশি। পাশাপাশি ক্ষতিকর কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম। এ ছাড়া এতে আছে প্রোটিন ও অ্যামিনো এসিড, যা আমাদের দেহগঠন ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।




















